• নথি হিসেবে আপলোড হয়েছে সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা! কমিশনের রোষের মুখে একাধিক DEO
    এই সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আগামিকাল, শনিবার রাজ্যে SIR-এর শুনানি পর্ব শেষ হচ্ছে। আর তার আগে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এর বৈঠক হয়। কমিশনের রোষের মুখে পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক। তবে, শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকই ছিলেন না তালিকায়। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশ কুমারের রোষের মুখে পড়েছেন কোচবিহার, মালদা, জলপাইগুড়ি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসকরাও।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কেন এখনও শেষ হয়নি হিয়ারিং-এর কাজ, কেন ভোটারের নথি যাচাই নিয়ে একাধিক গাফিলতি দেখা গিয়েছে, সেই নিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে হওয়া বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পাশাপাশি, বৈঠক থেকে জ্ঞানেশ কুমারের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনওভাবেই যেন বিদেশি ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান না পায়। ঠিক কোন কোন বিষয় তুলে ধরা হলো আজকের বৈঠকে?

    ● সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা, অস্পষ্ট ছবি ইত্যাদি নথি আপলোডের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এগুলো জেলাশাসক ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাওয়ারপয়েন্টে দেখানো হয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, এই নথিগুলো কী ভাবে আপলোড হলো, কে আপলোড করল, এবং জেলাশাসকরা কেন সেগুলো যাচাই করলেন?

    ● এখন কেন নতুন করে নথি আপলোড করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার। জাল বা তৈরি করা নথি আপলোডের চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট যে নথিগুলো অনুমোদন করেছে, শুধুমাত্র সেগুলোই যেন ERO/AERO-রা বিবেচনা করেন, তা ব্যক্তিগতভাবে দেখার দায়িত্ব জেলাশাসকদের।

    ● আগামী সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে সব DEO-কে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপলোড হওয়া প্রতিটি নথি অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী। আইটি টিমকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সময়সীমার পরেও সিস্টেমে এমন কোনও নথি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে। নির্ধারিত সময়ের পর যদি একটি নথিও ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে।

    ● DEO, ERO ও AERO-দের সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রতিটি নথি ও সিদ্ধান্ত বহু বছর সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে ১, ২ বা ৫ বছর পর কোনও ভোটার যদি বিদেশি বলে শনাক্ত হন, তাহলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেই জেলাশাসককে জেরার মুখে পড়তে হবে।

    রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অগ্রহণযোগ্য বা অস্পষ্ট নথির ভিত্তিতে যে সব মামলা যাচাই করা হয়েছে, সেগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে, যাতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    শুক্রবারের এই ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এ উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল, রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজ়ার্ভার সুব্রত গুপ্ত-সহ অন্যান্য ইলেক্টোরাল রোল অবজ়ার্ভাররা। এ ছাড়াও, প্রত্যেকটি জেলার জেলাশাসকরা এবং রাজ্যের CEO দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)