আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর-এর শুনানিতে নথি দিতে হবে বলে ডেকে নিয়ে কিডন্যাপ। অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএলও-সহ দুইজন। গত ৯ তারিখ সন্ধ্যা থেকে বছর ৩৮-এর নাসির আলী নামে এক ব্যক্তি আচমকা নিখোঁজ হন। ঘটনার জেরে বাদুড়িয়ার চাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাপিলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নাসির আলির পরিবারের লোকেরা বাদুড়িয়া থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানায়। একপ্রকার হুলুস্থুল পরিস্থিতি এলাকায়৷
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এসআইআর-এর নথি দিতে হবে, এই বলে এক ব্যক্তি ফোন করে ডেকে নেয় নাসিরকে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর চাতরা এলাকার একটি খাল থেকে নাসিরের মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়। কিন্তু তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। এমনকী বন্ধ ছিল মোবাইলের সুইচও।
অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় একটি ফোন আসে নাসিরের কাছে। ফোনে বলা হয় তাঁর এসআইআর শুনানি সংক্রান্ত বিষয়ে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে অবিলম্বে দেখা করতে হবে। জানা গিয়েছে, এইআরও- র পরিচয় দিয়ে ফোন করেন ওই ব্যক্তি। একটি ঠিকানা ফোনে জানিয়ে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। নাসির আলি তড়িঘড়ি তাঁর আধার কার্ড ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছু সময় পর থেকেই তাঁর মোবাইলের সুইচ বন্ধ। কোনও খোঁজ মেলে না নাসিরের।
বাদুড়িয়া থানায় তাঁর পরিবারের তরফ থেকে নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরপরই পুলিশ তাঁর খোঁজ শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর নাসিরের জুতো দেখে চিনতে পারেন তাঁর পরিবার। সেই জুতোর নিশানা ধরে পার্শ্ববর্তী খালে সারাদিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর তাঁর মোটর বাইকটি উদ্ধার হয় খাল থেকে। এ নিয়ে গ্রামবাসীরা চাতরায় পথ অবরোধেও নামেন।
অভিযোগ পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টু এবং সাগর গাইন-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইসঙ্গে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ হেফাজতে আবেদন করে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠায়।