সূত্রের খবর, সিপিএমের পক্ষ থেকে প্রথমে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে প্রায় ২৫টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে দর কষাকষির পর সর্বোচ্চ ৩০টি আসন পর্যন্ত ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। গত রবিবার দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে ৪৩টি আসন দাবি করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী এদিন আলিমুদ্দিনে ৪৩টি আসনের দাবিই তুলে ধরেন নওশাদ সিদ্দিকি।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা, নওশাদ চাপ বাড়াতেই সিপিএম কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ৩০টির বেশি আসন ছাড়া সম্ভব নয় বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিমান বসু ও মহম্মদ সেলিম। বৈঠকের পর নওশাদ বলেন, ‘এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, কত আসন ছাড়া হবে।’ তবে তিনি বুঝিয়ে দেন, সমঝোতা না হলে নিজেদের পছন্দের আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে তাঁর দল।
প্রসঙ্গত, আসন নিয়ে দেরি হওয়ায় আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন নওশাদ। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সেই অবস্থান কার্যত সিপিএমকে চাপে ফেলে দেয়। তার পরেই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে বাম নেতৃত্ব।
এদিকে বামফ্রন্টের অন্দরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। ফরওয়ার্ড ব্লক ও বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক পার্টি আসন ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেস জোটে না থাকায় শরিক দলগুলি আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি আসন চাইছে। কিন্তু সিপিএম সেই দাবি মানতে নারাজ।
অন্যদিকে, মহম্মদ সেলিম হুমায়ুন কবীরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি মজলিসের তরফেও দাবি করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ফলে নওশাদ, হুমায়ুন ও মজলিসকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গড়ার চেষ্টা চলছে বলেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। তবে সিপিএমের অন্দরের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ থাকা শক্তির সঙ্গে সমঝোতা কেন? কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, ‘এরপর হয়তো সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গেও জোট হবে।’
সব মিলিয়ে, আসন সমঝোতা নিয়ে বাম শিবিরে অস্বস্তি স্পষ্ট। ৪৩ বনাম ৩০— এই অঙ্কেই আপাতত আটকে রয়েছে আলোচনা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।