• এ বছরও বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ, বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের অন্দরেই পালিত হবে বসন্ত উৎসব
    এই সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • উন্মুক্তভাবে ‘বসন্ত উৎসব’ এ বারও হচ্ছে না । প্রবেশাধিকার থাকবে না বহিরাগত বা পর্যটকদের। ৬ মার্চ বিশ্বভারতীতে পালিত হতে চলেছে বসন্ত উৎসব । বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, তবে এই উৎসবে এ বছরও অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বহিরাগতরা।

    বিশ্বভারতীর বসন্ত উৎসব ও পৌষমেলা দেশ-বিদেশের পর্যটক-সহ রাজ্যে জনপ্রিয়। এ দিনগুলিতে বোলপুরে জড়ো হন লক্ষ লক্ষ মানুষ। উৎসব মুখর হয়ে ওঠে গোটা জেলা। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আপত্তিতে পৌষ মেলার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যায় বসন্ত উৎসবও। করোনাকাল শেষ হলেও ২০২১, ২২ ও ২৩ সালে হয়নি বসন্ত উৎসব। ২০২৪ সালে ঘরোয়া ভাবে ছাত্রছাত্রী এবং কর্মীদের নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল বসন্ত বন্দনার। বিশ্বভারতীর উপাচার্য, সমস্ত ভবনের অধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, কর্মী ও কর্মী সংঘের সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন অনুষ্ঠানে।

    ঘটনা প্রসঙ্গে দিন কয়েক আগেই সাংবাদিক বৈঠকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন,‘আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন তো বসন্ত উৎসব পালন করা হতো । কিন্তু এই পাঁচ বছর ধরে তা বন্ধ রাখার কারণটা তো সকলেই জানেন । যতক্ষণ না মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন হচ্ছে, ততক্ষণ তো বিশ্বভারতীকে শেষ হতে দিতে পারি না । সংস্কৃতিটাকে বাঁচিয়ে তো রাখতে হবে।’

    উপাচার্যের এই বক্তব্যের পরই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এ বছরও অবাধ প্রবেশ থাকবে না বসন্ত উৎসবে । তবে তাতেই এ বারও সিলমোহর পড়ল বিশ্বভারতী তরফে। বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ বলেন,' ৬ মার্চ আশ্রম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে বসন্ত উৎসবের। তবে এবছরও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। শুধু পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিক ও প্রাক্তনীরাই নির্দিষ্ট পোশাকে অংশগ্রহণ করতে পারবে এই অনুষ্ঠানে ।'

    প্রসঙ্গত ,২০১৯ এর বসন্ত উৎসবে অভিযোগ ওঠে বসন্ত তাণ্ডবের । বসন্ত উৎসবের পরে আশ্রম মাঠ থেকে শয়ে শয়ে মদের বোতল উদ্ধার, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মে আবির লাগানো আরো কত কিছুর সম্মুখীন হয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ । আর এসবের জন্যই করোনা মহামারীর ছুঁতোয় বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ করেন তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ।

  • Link to this news (এই সময়)