• চূড়ান্ত লিস্ট: বাদ যাচ্ছেই ১১ লাখ
    এই সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) খসড়া তালিকায় বাংলায় বাদ পড়েছিলেন প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটার। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার দু’সপ্তাহ আগে আরও প্রায় ১১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে নিশ্চিত ভাবে বাদ পড়তে চলেছে বলে কমিশন সূত্রের খবর। এই সংখ্যাটা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আজ, শনিবার পশ্চিমবঙ্গে ‘সার’–এর শুনানি শেষ হওয়ার কথা। তবে শুক্রবারই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (ডিইও) নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে এ দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন। এরপরে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানিতে পেশ হওয়া নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে হবে। সম্পন্ন করতে হবে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়াও। তার এক সপ্তাহ পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Voter List) প্রকাশিত হওয়ার কথা।

    কমিশন সূত্রের খবর, খসড়া তালিকা থেকে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি এবং ‘আনম্যাপড’ ভোটার চিহ্নিত হয়েছেন ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জন। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৯ জন ভোটারের কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছতে পারেননি বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)। কারণ, এঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর বাইরে ৬ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার শুনানির নোটিস পেয়েও হাজির হননি।

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, শুনানির পরে ১ কোটি ২৩ লক্ষের বেশি নথি যাচাই শুরু হয়ে গিয়েছে। এখনও ৫ শতাংশ নথি ইআরও–রা সিস্টেমে আপলোড করেননি। তবে প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাইয়ের পরেই ১ লক্ষ ৪০ হাজার নাম ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি এ–ও জানিয়ে দেন, ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার জন্য যে ফর্ম বিলি হচ্ছে, তা ভুয়ো। এই ফর্ম মেনে কেউ আবেদন করলে গ্রাহ্য হবে না। ইআরও-এইআরওরা এই কাজে যুক্ত থাকলে শাস্তির মুখে পড়বেন।

    সিইও আরও জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে যাঁদের নাম বাতিল হবে, তাঁরা মনে করলে পাঁচ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ডিইও–র কাছে নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারেন। সেখানে বাতিল হলে পাঁচ দিনের মধ্যে সিইও–র কাছে একই আবেদন জানাতে পারবেন। কেন নাম বাতিল হলো, তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে কমিশন তাঁদের কাছে চিঠি দিয়ে জানাবে।

    শুক্রবার ‘ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চে’র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেন, কোচবিহারে ১৬৬ জন বিএলও–কে দিয়ে ইআরও জোর করে বৈধ ভোটারদের ‘আনম্যাপড’ ভোটার হিসেবে দেখিয়ে হয়রান করছেন। হাওড়ার উলুবেড়িয়া মহকুমায় একটি বিধানসভা কেন্দ্রে ইআরও বা এইআরও নয়, বিএলও–দের দিয়ে শুনানি চলছে। এই বিষয়গুলি সিইও–র নজরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বপন।

  • Link to this news (এই সময়)