নতুন স্টেশন তৈরির ঘোষণা পূর্ব রেলের, জুড়ে যাচ্ছে আজিমগঞ্জ-নশিপুর, মিলবে উত্তরবঙ্গের ট্রেনও
আজ তক | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলার রেলপ্রেমীদের জন্য বিরাট ঘোষণা। নশিপুর-এ একটি নতুন প্যাসেঞ্জার হল্ট স্টেশনের অনুমোদন দিল রেলওয়ে বোর্ড। আজিমগঞ্জ ও নশিপুরের মিলন ঘটাতে ‘নশিপুর প্যাসেঞ্জার হল্ট’ স্টেশন তৈরিতে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। এরফলে দীর্ঘস্থায়ী ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক দ্বিধার অবসান ঘটাতে চলেছে বলে মনে করছে পূর্ব রেল।
উল্লেখ্য, একই জেলার অংশ হওয়া সত্ত্বেও, ভাগীরথী নদী মাঝে থাকায় আজিমগঞ্জ ও নশিপুর এলাকা দুটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল। ফলে স্থানীয় মানুষের কাছে এই ‘হল্ট’ স্টেশনটি কেবল একটি সাধারণ স্টেশন নয়; বরং এটি জেলাকে এক সুতোয় বাঁধার সংযোগ সূত্র ।
যাত্রীদের কী কী লাভ?
এই প্রস্তাবের প্রাথমিক সাফল্য হল হাওড়া ও শিয়ালদা ডিভিশনের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় সাধন। হাওড়ার দিক থেকে আসা যাত্রীদের আগে নশিপুর বা মুর্শিদাবাদ যাওয়ার জন্য ক্লান্তিকর যাত্রার সম্মুখীন হতে হত। রেল মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে সেই বাধা দূর করল। নশিপুরের বাসিন্দারা এখন সরাসরি হাওড়া নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবেন, অন্যদিকে হাওড়া ডিভিশনের যাত্রীরাও সরাসরি মুর্শিদাবাদের প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন।
রেলের দাবি, কৃষ্ণনগর (KNJ) - লালগোলা (LGL) সেকশনে অবস্থিত এই নতুন হল্ট স্টেশনটি জলপথের সময়সাপেক্ষ পারাপারকে দ্রুতগতির রেলযাত্রায় বদলে দেবে। এছাড়াও, ভাগীরথীর দুই তীরেই প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হয়। নতুন স্টেশনটি উৎপাদিত ফসলের দ্রুত বিনিময়ে সহায়তা করবে, যার ফলে কৃষকরা নদীর অনিশ্চিত পরিবহনের ওপর নির্ভর না করেই উভয় দিকের বাজারে সহজে পৌঁছাতে পারবেন।
পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদ এবং জিয়াগঞ্জ মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই হল্ট স্টেশনটি নশিপুর সেতু ব্যবহারকারী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সহায়ক হবে। এছাড়াও, এখানে স্টেশন হলে স্থানীয় যাত্রীদের উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন ধরার জন্য আর দূরবর্তী বড় স্টেশনে ছুটতে হবে না।