• জাল নোটের বদলেই কি চোরাই অস্ত্র পড়শি দেশে
    আনন্দবাজার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বিহারের তৈরি অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে সীমানা পেরিয়ে অবাধে বাংলাদেশে চলে যাচ্ছে। আর তার বিনিময়ে কি সেখান থেকে ভারতে জাল নোট ঢুকছে? প্রাথমিক তদন্তের পরে এমনটাই অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। তবে বিহার থেকে অস্ত্র পাচার চক্রের বিষয়টিতে নিশ্চিত হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত জাল নোট চক্রের কারও বিষয়ে এখনও সরাসরি হদিশ পাননি গোয়েন্দারা।

    কিন্তু কী ভাবে জানা গেল বিহারের তৈরি অস্ত্র সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছে? গোয়েন্দারা জানান, গত ১৫ জানুয়ারি ফরাক্কা স্টেশনের কাছ থেকে ছ’টি পিস্তল-সহ গ্রেফতার করা হয় তিওয়ারি কুমার এবং সেন্টু শেখকে। তিওয়ারির বাড়ি বিহারের মুঙ্গেরে আর সেন্টুর বাড়ি ফরাক্কাতেই। তদন্তে উঠে আসে, তিওয়ারি মুঙ্গের থেকে ওই অস্ত্র সেন্টুকে পৌঁছে দিয়েছিল। ধৃত সেন্টুকে জেরার পরে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ওই অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করার জন্যই আনা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে তা পৌঁছনোর আগেই ধরা পড়ে যায় ওই দুষ্কৃতী। বাংলাদেশে ভোট উপলক্ষেও সেখানে অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গোয়েন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেই অস্ত্রের বিনিময়ে জাল নোট পাচার চক্রের সক্রিয়তা সামনে এসেছিল। তবে তা মাঝে কিছুটা স্তিমিত ছিল। ফরাক্কা থেকে অস্ত্র-সহ দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করার পরেই ওই চক্রের ফের মাথা চাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এক তদন্তকারী জানান, জাল নোট এবং দেশি পিস্তল পাচারকারীরা একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে আগে জানা গিয়েছিল। সেই চক্রই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে কি না, খোঁজ করা হচ্ছে। সেন্টুর যাকে ওই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তার হদিস পেলেই ওই চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি বোঝা যাবে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।

    সূত্রের দাবি, এর আগেও একাধিক বার ধৃতরা বিহারের মুঙ্গের থেকে ট্রেনে করে অস্ত্র নিয়ে এসেছে এ রাজ্যে। তার পর নিরাপত্তার বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে নদী এবং সড়ক পথে তা বাংলাদেশে পাচারও করেছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)