• কমিশনের তুঘলকির মধ্যেই শুনানি শেষ, ১৩টির বাইরে গৃহীত সব নথি খারিজ সংশয়ে ভোটাররা
    বর্তমান | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি কারবারে শেষ লগ্নেও সংশয়ে ভোটাররা! নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে, অর্থাৎ শুক্রবারই জেলায় জেলায় বাকি থাকা যাবতীয় এসআইআর-শুনানি শেষ হয়েছে। আর এই পর্যায়ে এসে কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে কোনো নথি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। যাঁরা নির্ধারিত নথির একটিও দেননি, তাঁদের নাম বাদ যাবে। অথচ শুনানি পর্বে কমিশনের দেওয়া একটি ঘোষণাপত্র জমা দিয়েছেন বহু ভোটার। এবং তাঁদের বলা হয়েছিল, এই ঘোষণাপত্রই নথি হিসাবে বিবেচিত হবে। এখন তা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
    শুনানি পর্বে আনম্যাপড (২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম নেই) এবং লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের বলা হয়েছিল, বাবা বা আত্মীয় প্রমাণে একটি অন্তত নথি দাখিল করতে হবে। যাঁদের কোনো নথি নেই, তাঁদের একটি ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। যেখানে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে উল্লেখ করতে বলা হয়েছিল, তিনি অমুক বিধানসভার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ওই এলাকার অন্তত পাঁচজন ভোটারের পরিচিত ব্যক্তি। এবং যে পাঁচজন ভোটার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করছেন, ফর্মে তাঁদের নাম ও এপিক নম্বর উল্লেখ করতে বলা হয়েছিল। কমিশনের নির্দেশ মতো এমন বহু ফর্ম শুনানিতে জমা দিয়েছেন ভোটাররা। আর এখন শেষ লগ্নে এসে কমিশন জানাচ্ছে, এই ধরনের ফর্মের গ্রহণযোগ্যতাই নেই! নথি হিসাবে তা বিবেচিত হবে না। ফলে এখন রীতিমতো বিপাকে ভোটাররা। দক্ষিণ কলকাতার একটি বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিএলওর দাবি, ‘কমিশনই ভোটারদের থেকে এই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। তাহলে এখন কেন এই ফর্ম গ্রহণযোগ্য নয় বলা হচ্ছে?’ যদিও কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, প্রথম থেকেই বলা হয়েছে ১৩টি নথির বাইরে কোনো নথি গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের কোনো ফর্ম পূরণের নির্দেশ কখনো দেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কমিশনের এই খামখেয়ালিপনায় ভোটারকে কেন ভুগতে হবে?

    এসআইআরের কাজ পর্যালোচনা করতে এদিন জেলাগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনো গরমিল থাকলে তার ফল ভোগ করতে হবে আধিকারিকদের। আরও বলা হয়েছে, শুনানিতে জমা পড়া নথি পাঁচ বছর সংরক্ষিত থাকবে। পাঁচ বছর পরও যদি কোনো ভুল শনাক্ত করা যায়, তা হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।

    এদিনের বৈঠকে অন্তত সাত জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। এসআইআরের নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে দেরি হওয়ায় ভর্ৎসিত হয়েছেন কোচবিহারের জেলাশাসক। এছাড়া, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের সমালোচনা করেছে কমিশন। বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের বলা হয়েছে, কোথাও কোনো ডিইও, ইআরও বা এইআরও নিয়ম ভাঙলে, বা কেউ ভুল করলে তা কমিশনকে জানাতে হবে। এদিনই অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এন কে মিশ্রকে স্পেশাল অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করেছে কমিশন।

    আরও জানা গিয়েছে, শুনানিতে ডাক পাওয়া এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আরও ১৩ লক্ষ ভোটারের নথি আপলোডের কাজ বাকি। সেই সব তথ্য আপলোডের পর শুরু হবে নথি যাচাইয়ের কাজ। মোট ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারকে ডাকা হলেও তাঁরা শুনানিতে হাজির হননি বলে জানা গিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)