সুজিত রায়, আলিপুরদুয়ার
সাংসদের (MP LAD) জন্য বরাদ্দ টাকা খরচ নিয়ে বিতর্ক। রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন বিজেপির (Bjp) উদ্দেশে। এর জবাব দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। ২০১৯–এর লোকসভা (Loksobha) নির্বাচনে বিজেপি উত্তরবঙ্গে মুছে দিয়েছিল তৃণমূলকে। তার পর থেকে বিজেপি বার বার অভিযোগ তুলেছে, জেলা প্রশাসনের অসহযোগিতায় দলের সাংসদরা উন্নয়নের কাজ চালাতে পারছেন না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের সেই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহের মন্তব্যের জেরে শুরু হয়েছে এই দফার বিতর্ক। তিনি উত্তরবঙ্গের বিজেপি সাংসদদের জন্য বরাদ্দ টাকার হিসেব দাবি করেছেন।
মোট ২০০ কোটি টাকার হিসেব চেয়েছেন উদয়ন। অভিযোগ, বিজেপি সাংসদ ও বিধায়করা নিজেদের কোটার টাকা কাজে লাগাতে পারেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘জন বার্লা থেকে মনোজ টিগ্গা— উত্তরবঙ্গের আট সাংসদ কোথায় কোন কাজে কত টাকা খরচ করেছেন, তার বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরুন। বিজেপি অভিযোগ করে, টাকা খরচের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। টাকাটা তা হলে যাচ্ছে কোথায়?’ উদয়নের এই তিরের জবাব দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তাঁর দাবি, ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ১০ কোটি টাকা জেলাশাসকের কাছে জমা রয়েছে। বলেন, ‘যে কাজগুলির জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেগুলির কাজ আটকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর কাজ হয়েছে।
বার বার আবেদন জানিয়েও লাভ হচ্ছে না।’ মনোজের অভিযোগ, ‘মুখ্যমন্ত্রীর (Cheif Minister) নির্দেশে প্রশাসন ও শাসক দল বিজেপি সাংসদ–বিধায়কদের কোটার টাকার ব্যবহার আটকে দিচ্ছে। জেলাশাসককে বলা হয়েছে বিরোধীদের প্রস্তাব অনুমোদন না–করতে। ফলে উন্নয়নমূলক (Devolopment) কাজে বাধা তৈরি হচ্ছে।’ মনোজের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ৪ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার প্রস্তাব জমা পড়েছিল। এর মধ্যে অনুমোদন হয়েছে তিনটি কাজের। ভাটপাড়া চা বাগানের আচ্ছাপাড়া ডিভিশনে একটি কালভার্ট নির্মাণ, একটি পেভার ব্লকের রাস্তা তৈরি ও কুমারগ্রাম ব্লকের কুমারগ্রাম হাই স্কুলে একটি ক্লাসরুম তৈরির কাজে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে শুধু কালভার্টের কাজই হয়েছে। বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে আরও কিছু প্রস্তাব জমা পড়েছে। দুই অর্থবর্ষ মিলিয়ে ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার কাজ পড়ে রয়েছে। কোনও কাজই সম্পূর্ণ হয়নি। এর কারণ একেবারে রাজনৈতিক।’
এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, ‘নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। সাংসদ নির্দিষ্ট করে জানালে তবেই বলা যাবে কোন কাজ আটকে রয়েছে।’ যদিও নির্দিষ্ট প্রকল্প প্রসঙ্গে জানালেও তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে রাজি হননি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী (Minister) খারিজ করে দিয়েছেন মনোজের অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, ‘যদি সত্যিই টাকা আটকে থাকে, সাংসদরা ক্লাবের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেন। তেমন কাজও তো হচ্ছে না। স্কুল–কলেজকেও টাকা দেওয়া যায়। শুধু প্রশাসনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কী লাভ।’