• পরীক্ষায় ফেল নামী সংস্থার প্যাকেজড দুধ, মিলল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া
    এই সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: দুধ না খেলে নাকি ভালো ছেলে হওয়া যায় না! সুষম খাদ্যগুণের কারণেই হোক বা পুষ্টির ঘাটতি মেটানো— বাবা-মায়েরা চান এক গ্লাস দুধ অন্তত সন্তানদের রোজের খাদ্য তালিকায় যেন থাকে। শুধু বাচ্চারাই বা কেন, দুধ বড়দেরও পছন্দের খাবার। চায়ের কাপে হোক বা দুধের নানা ডিশ আজও আম জনতার পছন্দের তালিকায় উপরের দিকেই থাকে।

    কিন্তু সেই দুধ নিয়ে কি নিশ্চিন্ত থাকার দিন ফুরোলো? একটি বেসরকারি সংস্থার রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক প্যাকেটবন্দি দুধে রয়েছে ক্ষতিকারক কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে। ওই রিপোর্টকে ভুল বলে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাগুলি। তাদের অভিযোগ, মানুষকে অহেতুক আতঙ্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে যে সংস্থা দুধ পরীক্ষা করেছে, তারা পাল্টা জানিয়েছে, শুধু মাত্র নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে দুধ পরীক্ষা করা হয়েছে, এতে কোনও পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।

    সম্প্রতি ‘ট্রাস্টিফায়েড’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্যাকেটবন্দি দুধ পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে এনেছে। এই সংস্থা মূলত বিভিন্ন হেলথ প্রোডাক্ট নিয়মিত পরীক্ষা করে তার রিপোর্ট প্রকাশ করে। তারা যে পরীক্ষা করে তাকে ব্লাইন্ড টেস্ট বলা হয়। অর্থাৎ নমুনায় কোনও সংস্থার নাম থাকে না। কেবলমাত্র কিছু নম্বর বা কোড দিয়ে সেগুলিকে চিহ্নিত করা হয়।

    সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের টোনড মিল্ক, ফুলক্রিম মিল্ক, কাউ মিল্ক পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, সর্বাধিক বিক্রিত সংস্থার টোনড মিল্ক এবং ফুল ক্রিম দুধে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা ৯৮০ (কলোনি ফর্মিং ইউনিট পার মিলিলিটার)। ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ফ্যাসাই)-এর নিয়ম অনুযায়ী দুধে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা ১০-এর নীচে থাকা উচিত। নামজাদা আর একটি সংস্থার দুধেও কলিফর্ম কাউন্ট নির্ধারিত সীমার থেকে আট গুণ বেশি। কেবলমাত্র অ্যাপের মাধ্যমে দুধ বিক্রি করে এমন একটি সংস্থার গরুর দুধের স্বাস্থ্যও ভালো নয়। তাদের দুধের কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার দ্বিগুণ।

    বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার এই মাত্রা হয়তো প্রাণঘাতী নয়, কিন্তু এদের উপস্থিতি মানেই হলো— দুধ প্রসেসিং বা প্যাকেজিংয়ের সময় সাফ-সাফাইয়ে বড়সড় গলদ থেকে গিয়েছে। এর ফলে পেটের গোলমাল, ডায়েরিয়া বা জ্বরের মতো সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশু আর বয়স্কদের জন্য যা চিন্তার কারণ।

    ট্রাস্টিফায়েড সংস্থার ওই রিপোর্ট মানতে নারাজ দুধ বিপণন সংস্থাগুলি। তাঁদের দাবি, ভুল তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রসেসিং ইউনিট থেকে বেরোনোর আগে দুধ অন্তত ৫০টি গুণমান পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায়। নমুনা সংগ্রহ বা সংরক্ষণে ভুল থাকলে ল্যাব রিপোর্টে এরকম উল্টোপাল্টা ফল আসতেই পারে।

  • Link to this news (এই সময়)