• পান-গুটখার পিকে লালে লাল সুপ্রিম কোর্ট, নেশা বন্ধে নির্দেশিকা জারি আদালতের
    এই সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • রেহাই পেল না সুপ্রিম কোর্টও। দেওয়ালে, বেসিনে এমনকি মেঝেতেও ছড়িয়ে রয়েছে গুটখার পিক। পানমশলা খেয়ে থুতু ফেলেছেন নেশাড়ুরা। আর তার পাশ দিয়েই হেঁটে যেতে হচ্ছে দেশের তাবড় আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীদের। কেউ নাক সিঁটকে দেখছেন। কেউ মুখে রুমাল চাপা দিচ্ছেন। একেবারে গা ঘিনঘিনে ব্যাপার। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল দেশের শীর্ষ আদালত।

    গুটখার পিক থেকে শীর্ষ আদালতকে বাঁচাতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আদালতে আসা অনেকেই গুটখা, পানমশলা, তামাক চিবিয়ে দেওয়ালের কোণে, ওয়াশ বেসিনে পিক ফেলছেন। এর ফলে আদালত চত্বর নোংরা তো হচ্ছেই, জল নিকাশি ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।’ গুটখার পিক থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও নির্দেশিকায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।

    আইনজীবী এবং আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের কাছে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আর্জি জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘সবাইকে বলা হচ্ছে, আদালত চত্বরে গুটখা, পানমশলা খেয়ে থুথু ফেলবেন না। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।’ বিচারপ্রার্থীদেরও সমস্যায় পড়তে হয় বলে নির্দেশিকায় জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ব্রিজ, হাইওয়ে, রাস্তা সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে গুটখার পানের পিকের লাল লাল ছোপ। অতিষ্ঠ দেশবাসী। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে Global Adult Tobacco Survey-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ২৯.৬ শতাংশ পুরুষ গুটখায় আসক্ত। মহিলারাও পিছিয়ে নেই। ১২.৮ শতাংশ মহিলা গুটখার নেশা করেন বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

    তবে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর গুটখা, পানমশলা তৈরি এবং বিক্রির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে Food Safety and Standards Authority of India (FSSAI)। তবে তার পরেও বহু জায়গাতেই এই সব নেশাদ্রব্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নিষেধাজ্ঞার পরেও ছবিটা পাল্টায়নি বিন্দুমাত্র।

  • Link to this news (এই সময়)