• বাদুড়িয়ায় যুবকের টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার
    আজকাল | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা নাসির আলি (৩৬)–র টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। যমুনা খাল সংলগ্ন নদী থেকে একাধিক প্যাকেটে ভরা অবস্থায় দেহাংশগুলি উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। জানা গেছে, ধৃত বিএলও–কে জেরা করেই মিলেছে দেহের সন্ধান। তারপরই উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার পাপিলার বিভিন্ন খাল এবং নদী থেকে উদ্ধার হল নিখোঁজ নাসির আলির টুকরো করা দেহ। ধৃত বিএলওর নাম রিজওয়ান হাসান মণ্ডল। এই ঘটনায় সাগর গায়েন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধে থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাসির। পরিবার সূত্রে খবর, এইআরও–র পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করেন এক ব্যক্তি। তিনি ফোনে জানান, এসআইআরের কারণে নাসিরের মায়ের আধার কার্ডের ফটোকপি দিতে হবে। কোথায় দিতে হবে, তা–ও জানানো হয়। নাসির তড়িঘড়ি মায়ের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের ফটোকপি নিয়ে বাড়ি থেকে মোটরবাইকে চেপে বেরিয়ে যান। তার পরে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি, ফোনেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে যমুনা খাল থেকে তাঁর মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়। এরপরই অপহরণ ও খুনের আশঙ্কা জোরদার হয় পরিবারের মধ্যে। এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং দ্রুত তদন্তের দাবি তোলেন। শুক্রবার পাপিলা এলাকার ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডল এবং সাগর গাইনকে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে যমুনা খাল ও সংলগ্ন নদী থেকে একাধিক প্যাকেটে ভরা অবস্থায় নাসির আলির দেহাংশ উদ্ধার করা হয়।দেহাংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত খুন বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। রিজওয়ান হাসান এবং সাগরকে শুক্রবার বসিরহাট আদালতে হাজির করানো হয়। ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয় তাদের। তাদের জেরা করে গভীর রাতে পুলিশ বাদুড়িয়ার বিভিন্ন নদী ও খাল (চাতরা ব্রিজের তলায় যমুনা খাল, চারঘাট ইছামতী নদী ও লালকুঠি এলাকার একটি ডোবা) থেকে নাসিরের টুকরো টুকরো করা পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। প্যাকেটে ভরা ছিল সেগুলি। 

    মৃত ও ধৃতদের ফোন কলের উৎস ও কল ডিটেলস রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিবার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তারি হতে পারে। ‌

     
  • Link to this news (আজকাল)