• ওআরএস-এর জনক দিলীপ মহলানবিশের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন
    আজকাল | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনস্বাস্থ্য বিপ্লবের যুগপুরুষ এবং ওআরএস-এর জনক ডা. দিলীপ মহলানবিশ। মানবতার সেবায় বিজ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী পদ্মবিভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত চিকিৎসক-বিজ্ঞানীর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (icmr)-এর অধীনস্থ National Institute for Research in Bacterial Infections (NIRBI) । প্রতিষ্ঠানটি পূর্বে National Institute of Cholera and Enteric Diseases (আইসিএমআর-এনআইসিইডি) নামে পরিচিত ছিল। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও অসামান্য অবদানকে স্মরণ করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের স্বাস্থ্য গবেষণা দপ্তরের সচিব ও আইসিএমআরের ডিরেক্টর ডাঃ রাজীব বেহল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, আইসিএমআর-এনআইআরবিআই-এর অধিকর্তা ডাঃ সন্তসবুজ দাস-সহ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও কর্মীরা।

    ডাঃ মহলানবিশের নাম উচ্চারিত হলেই সামনে আসে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস)-এর কথা। ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রাণরক্ষাকারী এক সহজ, সুলভ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। ১৯৭০-এর দশকে কলেরার প্রকোপের সময় সীমিত সম্পদের মধ্যেও তিনি ওআরএস-এর কার্যকারিতা প্রমাণ করে দেখান। তাঁর এই উদ্যোগ পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটায়। আজ ওআরএস বিশ্বব্যাপী ডায়রিয়াজনিত রোগ মোকাবিলার অন্যতম প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং UNICEF-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এটি গ্রহণ করে শিশু সুরক্ষা কর্মসূচির মূল স্তম্ভে পরিণত করেছে। লক্ষ লক্ষ শিশুর প্রাণরক্ষায় তাঁর এই অবদান বিশ্বস্বাস্থ্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইসিএমআরের মহাপরিচালক রাজীব বেহল বলেন, “ডাঃ দিলীপ মহলানবিশ ছিলেন এক দূরদর্শী বিজ্ঞানী, যিনি গবেষণাকে মানুষের সেবায় রূপান্তরিত করেছিলেন। ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপির প্রসারে তাঁর ভূমিকা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান। এই আবক্ষ মূর্তি তাঁর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক।”

    এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, “ডাঃ মহলানবিশের জীবন ও কাজ আগামী প্রজন্মের গবেষক ও জনস্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। সমাজমুখী, সমতাভিত্তিক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত গবেষণার পথেই এগিয়ে যেতে হবে—এই বার্তাই যেন নতুন করে উচ্চারিত হল আইসিএমআর-এনআইআরবিআই প্রাঙ্গণে।
  • Link to this news (আজকাল)