ভোটের আগে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণাকরে চমক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মাধ্যমিক পাশ ২১ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বেকাররা এবার থেকে মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা পাবেন এই প্রকল্পে। অর্থাৎ বছরে মিলবে ১৮ হাজার টাকা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পের ক্যাম্প চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্প হবে। সেখানেই মিলবে যুবসাথীর ফর্ম। কেমন দেখতে সেই ফর্ম? কীভাবে ফিলআপ করতে হবে? কী কী ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বে? স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি জেনে নিন ফর্ম দেখে।
কেমন দেখতে সেই ফর্ম?
অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের মতোই যুবসাথী প্রকল্পের ফর্মটি। বাবা-মায়ের নাম, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর, দুয়ারে সরকারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বসাতে হবে ফর্মে। লাগবে এক কপি কালার্ড ছবি। সঙ্গে দিতে হবে ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC। জানাতে হবে আপনি অন্য কোনও সরকারি প্রকল্প পান কি না। এছাড়াও ফর্মের সঙ্গে অবশ্যই দিতে সেল্ফ অ্যাটাস্টেড মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের ফটোকপি, আধার কার্ডের ফটোকপি, ভোটার কার্ডের ফটোকপি এবং তপশিলি জাতি বা উপজাতি শংসাপত্র (যাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।
সেল্ফ ডিকলারেশন
এই ফর্মের সবশেষে রয়েছে সেল্ফ ডিকলারেশন কলাম। এটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানাতে হবে আপনি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, আপনি অদ্যাবধি একজন বেকার এবং আপনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প বা কোনও ভাতার আওতায় সাহায্য পাচ্ছেন না, রাজ্য সরকার প্রদত্ত শিক্ষাগত সুবিধা বা বৃত্তি ছাড়া। যদি এই সময়ের মধ্যে আপনি কোনও কর্মসংস্থার পাই তবে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। একইসঙ্গে আপনার দ্বারা জমা করা সমস্ত নথি এবং তথ্য সত্য। যদি কোনও তথ্য বা নথি মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সুবিধাটি প্রত্যাহার করা হবে।
কবে থেকে ফর্ম ফিলআপ?
আগামী ১৫ই মার্চ থেকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পের ক্যাম্প চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্প হবে। এই ক্যাম্প ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন চলবে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতেই বিশেষ ক্যাম্প বসানো হবে।
কারা পাবেন না এই প্রকল্পের সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস, ঐক্যশ্রী বা মেধাশ্রীর মতো সরকারি স্কলারশিপ পান তাদেরও মিলবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা। তবে অন্য কোনও স্কিমে টাকা না পেলে, আগামী ৫ বছর ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। পাঁচ বছরে চাকরি না পেলে নাম রিনিউ করা হবে। তারপর ফের যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাবেন। তবে লক্ষ্মী ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো স্কিম থাকলে তারা টাকা পাবেন না। আবেদনকারী বর্তমানে কোনও সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলে পাবেন না।