শ্রীনিকেতনে বিশ্বভারতীর গোশালা তৈরি নিয়ে বিতর্কের ঝড়
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বভারতীর তরফে জানানো হয়েছ, শ্রীনিকেতনে একটি সুপরিকল্পিত গোশাল নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপন্ন গোবর থেকে বায়োগ্যাস প্রস্তুত করা হবে। যা শ্রীনিকেতনে পথবাতি জ্বালানোর কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গোশালায় উৎপাদিত দুধ পাঠভবনের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন রাস্তায় যে সব মালিকানাহীন গরু ঘুরে বেড়ায় তাদের গোশালায় সংরক্ষণ করা হবে বলে দাবি বিশ্বভারতীর। এসএফআই বিশ্বভারতী কমিটি বিবৃতি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি অরিত্র ঘোষ ও সম্পাদক বাণ্ডুলি কাহার অভিযোগ করে লেখেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন ও অ্যাকাডেমিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে অন্যত্র ব্যয় করার সিদ্ধান্ত ছাত্রস্বার্থবিরোধী এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পাঠ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আবাসিক হস্টেলগুলিতে কক্ষসংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়েছে। হস্টেলের খাবারের মান নিয়েও বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাহুল আচার্য ও শুভদ্বীপ দে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান না করে গোশালা নির্মাণে অর্থব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া ঠিক নয়। গোশালা নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে প্রয়োজনে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটার কথাও উল্লেখ করেছে ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে এ বিষয়ে ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।