জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ে পৌঁছে তার সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন আধিকারিকরা। একটি সরকারি বিদ্যালয়কে যে এত সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা সম্ভব, তা তাঁদের প্রত্যাশারও বাইরে ছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ ও পড়ুয়াদের আন্তরিকতায় তৈরি এই পরিবেশ দেখে তাঁদের শৈশব ও ছাত্রজীবনের স্মৃতিমেদুরতা যেন নতুন করে ফিরে আসে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মিসবাউল হকের উদ্যোগেই এই পরিবর্তনের সূচনা। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা মিলিতভাবে বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও সবজির চাষ শুরু করে। এর ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবেশ সচেতনতার বীজ রোপিত হয়েছে। বিদ্যালয় এখন শুধু শিক্ষার কেন্দ্র নয়, পড়ুয়াদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে তাদের কল্পনার প্রিয় স্থান।
শিক্ষকদের কথায়, ‘বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই পড়ুয়ারা নিজেরাই এই বাগান পরিচর্যা করে। এমনকি ছুটির দিনেও অনেকেই এসে গাছের যত্ন নেয়।’ ফলে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
তবে এত সৌন্দর্য ও ইতিবাচক পরিবেশের মধ্যেও রয়েছে কিছু মৌলিক পরিকাঠামোগত সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষের অভাব, পানীয় জলের অসুবিধা, শৌচাগারের অপ্রতুলতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালি এবং জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
বিদ্যালয় চত্বর ঘুরে দেখে শিক্ষকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন জেলাশাসক। পাশাপাশি পড়ুয়াদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন। বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মিসবাউল হক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলছিলাম। জেলাশাসক নিজে এসে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।’
অভিভাবকরাও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পরিকাঠামো উন্নত হলে এই আদর্শ পরিবেশে পড়ুয়ারা আরও ভালোভাবে শিক্ষালাভ করতে পারবে। প্রশাসনের আশ্বাসে এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন শিক্ষক, পড়ুয়া এবং অভিভাবক—একটি স্বপ্নের পাঠশালা আরও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার অপেক্ষায়।