• নথি চেয়ে ফোন এসেছিল BLO-র, ৪ দিন পর তৃণমূল কর্মীর টুকরো দেহাংশ মিলল বিভিন্ন জায়গায়
    ২৪ ঘন্টা | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বিমল বসু: তিন তিনটি জায়গা থেকে উদ্ধার হল এক তৃণমূল কর্মীর দেহাংশ। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার চাতরায় ৪ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হল স্থানীয় তৃণমূল কর্মী আমির আলির দেহাংশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। তার মধ্যে একজন বিএলও। তাদের বসিরহাট আদালতে তুলে ৭ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। 

    কীভাবে ঘটল এতবড় ঘটনা। সূত্রের খবর, সোমবার এসআইআর এর নথিতে গোলমাল রয়েছে বলে ওই তৃণমূল কর্মী নাসির আলিকে ফোনে ডেকে পাঠানো হয়। নথি নিয়ে নাসিরকে বিডিও অফিসে আসার পরিবর্তে তাকে লালকুঠি এলাকায় আসতে বলা হয়। সেই ফোন পেয়ে চাতরার পাপিলা এলাকার বাসিন্দা নাসির লালকুঠির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার পর থেকে চার দিন তার কোনও খোঁজ মেলেনি।

    এদিকে, পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে ফোন করে নাসিরকে যে ডেকে পাঠিয়েছিল রিজওয়ান হাসান মণ্ডল। তার বাড়ি নাসিরের বাড়ির কাছাকাছি। সে একজন বিএলও। ঘটনার পর থেকে সেও নিখোঁজ। তার সঙ্গেই এলাকাছাড়া সাগর গাইন নামে এক তৃণমূল কর্মী। 

    ওই তথ্য পাওয়ার পর রিজওয়ানের খোঁজে নেমে পড়ে পুলিস। বিশ্বস্তসূত্রে খবর পেয়ে রিজওয়ান মণ্ডলকে স্বরুপনগরের তেঁতুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সাগর গাইনকে গ্রেফতার করা হয় রামপুরহাট থেকে। শুরু হয়ে যায় জেরা। তাতেই জানতে পারা যায় নাসিরের নিখোঁজের পেছনে জড়িত রিজওয়ান ও সাগর। খুনই হয়ে গিয়েছেন নাসির। তাদের জেরা করে এলাকার তিনটি জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয় নাসিরের দেহাংশ।

    কেন এইম নৃশংস খুন তা জানার চেষ্টা করছে পুলিস। এখনওপর্য়ন্ত এনিয়ে কোনও খবর নেই। তবে কোনও কোনও মহলের মতে পারিবারিক বা আর্থিক কোনও কারণ থাকতে পারে। তবে প্রেম ঘটিত বিষয়টিও খুব ক্ষীণভাবে উঠে আসছে। 

    পরিবারের লোকজনের বক্তব্য, বাড়ি না ফেরায় খোঁজ খবর শুরু হয়ে যায়। সোমবার সন্ধেয় ও বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। রাত আটটা বাজার পর ওর ফোন ফোন করলে সুইচড অফ পাওয়া যায়। ওকে ফোন করে বলা হয়েছিল, তোমার কাগজপত্রে ভুল আছে। উপযুক্ত নথিপত্র নিয়ে এস। ওকে বলা হয় বিএলও বলছি। 

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)