• বাগানে শুরু লোবেরা-বল, অনবদ্য রবসন, প্রেম দিবসে সমর্থকদের জয় উপহার দিল মোহনবাগান
    আজকাল | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কৌশিক রায়: অবশেষে চাকা গড়াল ভারতীয় ফুটবলের। শনিবার ঢাকে কাঠি পড়ল ইন্ডিয়ান সুপার লিগের। আর ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর দিন সমর্থকদের জয় উপহার দিল মোহনবাগান। দীর্ঘদিন পর ফুটবল ফিরল ভারতে। ছুটির দিন হওয়ায় এদিন মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রায় ২৯ হাজার দর্শক। ভরা যুবভারতীতে জয় দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করল সবুজ মেরুন।

    ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে মলিনা বলেছিলেন, ১-০ জয়ের থেকে ৬-২ ব্যবধানে জিততে বেশি পছন্দ করেন তিনি। মোহনবাগানের খেলায় এদিন শুরু থেকেই সেই চিন্তাধারা দেখা গেল। হাইলাইন ডিফেন্স নিয়ে শুরু থেকে প্রেস করা শুরু করলেন লিস্টনরা। ৪-২-১-৩ ফর্মেশনে বাঁদিকে রবসন এবং ডানদিকে খেলছিলেন লিস্টন। মাঝে ম্যাকলারেন এবং একটু নিচ থেকে খেলছিলেন দিমিত্রি।

    কিন্তু শুরু থেকে মোহনবাগানের প্রেসিংয়ের মুখে পড়লেও চাপ ভালই সামলাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল কেরল ব্লাস্টার্স। প্রথম সুযোগ আসে ম্যাচের ৬ মিনিটের মাথায়। বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে রিসিভ না করে চলন্ত বলেই শট রাখেন দিমিত্রি। কিন্তু ঠিকঠাক সংযোগ না হওয়ায় বাইরে যায় শট। ১৬ মিনিটে দূর থেকে শট রাখেন রবসন রবিনহো। আটকে দেন কেরল গোলরক্ষক শচীন সুরেশ।

    কেরল একটা সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল খেলার ২৭ মিনিটে। মোহনবাগানের সেন্টার ব্যাক অ্যালবার্তোর মিসপাস থেকে ফাঁকায় বল নিয়ে বেরিয়ে যান কেরলের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ভিক্টর বার্তোমেউ। সময়মতো বিশাল কাইথ বেরিয়ে এসে গোল বাঁচান। তার কিছুক্ষণ পরেই বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে রাখা লিস্টনের ফ্রি- কিক বাঁচিয়ে দেন শচীন সুরেশ।

    বাগান এদিন প্রথম গোল পেল ৩৬ মিনিটে। ইনডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্সে ত্রাতা হয়ে উঠলেন সেই জেমি ম্যাকলারেন। ডানদিক থেকে দিমিত্রির পাস বক্সের মধ্যে রিসিভ করেন জেমি। তাঁর সঙ্গে আঠার মত সেঁটে ছিলেন কেরল ডিফেন্ডার আইবান। এক ঝটকায় তাঁকে নিয়ে ঘুরে শট রাখেন ম্যাকা। শচীন সুরেশের কিছু করার ছিল না। বিরতির আগেই দ্বিতীয় গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল মোহনবাগান। বাঁদিক দিয়ে ঢুকে বেশ কয়েকবার কেরলকে বেগ দেন রবসন। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ফলাফলে সেরকম বদল হয়নি। খেলার গতিও দুই দলই কমিয়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি, থ্রু পাসের অভাবে কেরল ডিফেন্স সহজে ভাঙতে পারছিলেন না ম্যাকলারেনরা।

    বিরতির পর শুভাশিসের জায়গায় মাঠে নামেন আমে রানাওয়াডে। ৫৩ মিনিটের মাথাতেই সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল তাঁর কাছে। ফাঁকা গোলে বাইরে মারেন আমে। তবে গোটা ম্যাচ জুড়ে এদিন বাঁদিক থেকে একের পর এক আক্রমণ শানান রবসন।

    গত বছরের ৩১ অক্টোবর সুপার কাপে ডার্বি শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন কামিংসরা। তারপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ছিল অনুশীলন। লোবেরা সহ বাকি ফুটবলাররা ফের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর প্রায় আড়াই মাস টানা অনুশীলন করে দল। তারপর এদিন টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে প্রায় স্কোয়াডের সব ফুটবলারকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিলেন লোবেরা। ৮০ মিনিটে মেহতাব এবং দিমিত্রির জায়গায় মাঠে আসেন আলড্রেড এবং সাহাল। ৮৩ মিনিটে লিস্টনের জায়গায় আসেন মনবীর এবং ৮৭ মিনিটে ম্যাকলারেনের জায়গায় আসেন কামিংস।

    ম্যাচের শেষ দিকে বেশ কয়েকটা সুযোগ তৈরি করেছিল কেরল। কিন্তু বাগান ডিফেন্ডাররা চাপ সামলে দেন। সংযুক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে থাপার ফ্রি-কিক থেকে জোরালো হেডে কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন আলড্রেড। এদিন ম্যাচের সেরা হন জেমি ম্যাকলারেন। বাগানের পরবর্তী ম্যাচ চেন্নাইয়ান এফসির বিরুদ্ধে।
  • Link to this news (আজকাল)