• কাটোয়ায় অজয়-ভাগীরথীর মিলনস্থল থেকে দেদার বালি ও পলিমাটি লুট
    বর্তমান | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: অজয়-ভাগীরথীর মিলনস্থল কাটোয়ায়। দুই নদীতেই আঁধার নামলেই শুরু হয়ে বালি ও পলিমাটি তোলার কাজ। অজয় থেকে নৌকায় বালি লুট করে নিয়ে ভাগীরথী দিয়ে পালাচ্ছে কারবারিরা। শ’য়ে শ’য়ে নৌকা প্রতিদিন দুই নদী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভাগীরথী থেকে সাদা পলিমাটি তুলে দেদার পাচার করা হচ্ছে। প্রভাবশালীদের হাত মাথায় থাকায় ফুলে ফেঁপে উঠছে কারবারিরা। অজয়ের বালি লুট বন্ধ করতে এবার অভিযানে নামল কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কেতুগ্রামের শাঁখাই ঘাটে বালি তোলার একটি নৌকা আটক করে পুলিশ।
    কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটের কাছে অজয়ের সঙ্গমস্থল। সন্ধ্যা নামলেই কেতুগ্রামের নবগ্রাম, বেগুনকোলা মৌজা দিয়ে শ’য়ে, শ’য়ে নৌকা ঢুকছে। তারা বালি তুলে পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও নদীয়া জেলার বিভিন্ন ঘাটগুলিতে সরবরাহ করছে। আর নদীঘাটের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকে ডাম্পার। তাতে বোঝাই করে চলে যাচ্ছে। এমনকী ভাগীরথী থেকে সাদা পলিমাটি ইটভাটার জন্য লুট করা হচ্ছে। শুধু কেতুগ্রাম থানা নয়, কাটোয়া থানা এলাকাতেও একই কায়দায় সাদা পলিমাটি লুট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পুলিশ দেখলেই নৌকাগুলি নদীয়া জেলার জলসীমার মধ্যে চলে যায়। এই বালি তুলতে গিয়ে নৌকা উল্টে কেতুগ্রামের একজন শ্রমিকের মৃত্যুও হয়েছে। তবুও হুঁশ ফেরেনি কারবারিদের। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, কারবারিদের মাথায় ‘প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ রয়েছে। কেতুগ্রামের শাঁখাই এলাকায় ভাগীরথী ও অজয়ের সঙ্গমস্থল এলাকায় এই বালি নৌকাগুলির দেখা মেলে। নৌকাগুলি নদী থেকে তোলা বালি ও পলিমাটি বিভিন্ন ঘাটে পৌঁছে দেয়। বালতি দিয়ে ভিজে বালি ছেঁকে তোলা হয়। মাঝনদীতে দড়ি বাঁধা বালতি ছুঁড়ে দিয়ে বালি তোলা হয়। জানা গিয়েছে, এক নৌকা বালির দাম কয়েক হাজার টাকা। ভাগীরথীর অপর পাড়ে থাকা নদীয়া জেলার বল্লভপাড়া, ভাগ্যবন্তপুর প্রভৃতি এলাকা থেকেই এই সমস্ত অবৈধ বালি কারবারিরা নৌকা নিয়ে আসে। তাই পুলিশ অভিযানে গেলেই নৌকা ঘুরিয়ে নদীয়া জেলার সীমান্তে চলে যায়। পুলিশ মাঝেমধ্যে বালির নৌকা ধরতে পারলেও আড়ালেই থেকে যায় মূল কারবারিরা।
  • Link to this news (বর্তমান)