বিলুপ্তির পথে স্রোতহীন জলঙ্গি ও ভৈরব, সরকারি পদক্ষেপ দাবি
বর্তমান | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, করিমপুর: শীত শেষে বসন্ত আসার আগেই শুকিয়ে কাঠ করিমপুরের দুই নদনদী জলঙ্গি ও ভৈরব। অথচ একসময় এলাকার এই দু’টি নদনদী জলে ভরে থাকত। এখন জলঙ্গিতেযেমন হাঁটুজলও নেই তেমনি আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে ভৈরবও। গত কয়েকবছর থেকেই জল সংকটের কারণে দুই নদনদীর কথা মনে পড়ছে করিমপুরবাসীর। এলাকারপ্রবীণ মানুষেরা জানান, এক সময় জলে ভরা নদীতে নৌকায় বাণিজ্য চলত। এখনসেই নদীর চিহ্ন মাত্র নেই। সভ্যতার অত্যাচারে এখন বর্ষাকালেও ভৈরবে জল থাকেনা। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যপূর্ণ ভৈরবের বর্তমানেশুধুমাত্র রেখাটুকুই রয়ে গিয়েছে। ভৈরব নদ মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি নদী থেকে উৎপন্নহয়ে নদীয়ার করিমপুরের নন্দনপুর পেরিয়ে বাংলাদেশে মেহেরপুরে প্রবেশ করেছে।
নন্দনপুরের কাছে বাংলাদেশ সীমানায় ভৈরব এখন স্রোতহীন, কচুরিপানায় ভর্তি। ভৈরব এখন মজে যাওয়া খাল ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নদের ইতিহাসসম্পর্কে শিকারপুরের শিক্ষক দীপক সাহা বলেন, অবিভক্ত বাংলায় নাটোরের মহারানিভবানীর অধীনে ভৈরবের পাড়ে ছিল নারায়ণ চক্রবর্তীর জমিদারি। সেই সময়েবেনারস থেকে গঙ্গা-ভৈরব নৌপথে যাতায়াত চলত। ভৈরবকে নিয়ে অনেক পুরনো স্মৃতিআছে। এক সময় ভৈরবে বছরভর জল থাকত। বিশাল বিশাল নৌকা চলত। খেয়াঘাট ছিল।সুদূর কলকাতা বেনারসের সঙ্গে গঙ্গা ও ভৈরব ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। এলাকারপ্রবীণ মানুষদের অভিযোগ, পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেও ভৈরবের ভরা যৌবন ছিল। নদীরআশেপাশের বহু চাষি চাষের কাজেভৈরবের জল ব্যবহার করতেন।মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ফরাক্কা বাঁধনির্মাণ হওয়ায় পর থেকে ভৈরব সহ অন্যান্য নদনদীগুলোর অস্থিত্ব সংকটে পড়ে। তার উপর কোথাও নদীর বুকে তৈরি হয়েছে বসতি। আবার কোথাও নদীরমাঝেই চলছে চাষবাস। নষ্ট হয়ে গিয়েছে ভৈরবের স্বাভাবিক ভূমি ঢাল। ফলের বর্ষারসময় নদীর কোথাও সামান্য জল দেখা গেলেও নদীর বেশিরভাগ জায়গা বছরভর শুকনোথাকে। একদিকে ভৈরবের জমি দখল করে চলছে চাষাবাদ, অন্যদিকে বেআইনিভাবে মাটিচুরি হয়ে যাচ্ছে। সবই চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অথচ জলের অভাবে এলাকায়সেচ ব্যাহত হয়। পাট পচাতে পারেন না চাষিরা। প্রাকৃতিক মাছ বিলুপ্তির পথে।মৎসজীবীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। জলাভাবে জনপদগুলিও ধুঁকছে। করিমপুর নেচারকেয়ার সোসাইটির সদস্য শেখর মণ্ডলের দাবি, ভৈরব তার নিজস্বতা হারিয়েছে।মানুষের নিজের স্বার্থে ভৈরবের প্রবাহকে চিরতরে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। ভৈরবকে বাঁচাতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।করিমপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আলাউদ্দিন মণ্ডল জানান, এলাকার জলঙ্গি ও ভৈরব উভয় নদনদীরই গভীরতা কমে গিয়েছে। নদীগুলোকে সংস্কারকরার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সেচদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হবে।