• তৃণমূলের নির্বাচনী কোর কমিটিতে এলেন হুমায়ুন বিরোধীরা
    আজকাল | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় 'জবাব' দিতে মুর্শিদাবাদে তাঁর ঘোষিত বিরোধী হিসেবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তিকে জেলার সাংগঠনিক নির্বাচনী কোর কমিটিতে জায়গা করে দিলেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় ২০২১- র নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২২টির মধ্যে কুড়িটি আসন থেকে জয়ী হয়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি করার লক্ষ্যে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে শনিবার মুর্শিদাবাদের দু'টি সাংগঠনিক জেলা- জঙ্গিপুর এবং বহরমপুরের জন্য মোট ছাব্বিশজনের দু'টি কোর কমিটি তৈরি করে দেওয়া হল। 

    জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলায় এই কোর কমিটিতে বড় কোনও চমক নেই। সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমান-সহ এই কমিটিতে ওই সাংগঠনিক জেলায় ন'টি বিধানসভা কেন্দ্রের ন'জন বিধায়ককে নিয়ে মোট ১০ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

    অন্যদিকে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত ১৩টি বিধানসভা আসনের জন্য মোট ১৬ জনের কোর কমিটি তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে এই কমিটিতে চারজন ব্লক সভাপতি, একজন পুরসভার চেয়ারম্যান এবং একজন জেলা পরিষদের কো-মেন্টরকে স্থান দেওয়া হয়েছে। 

    যদিও দু'টি কমিটির ক্ষেত্রেই রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে সভাপতি বা অন্য কোনও পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ এবং বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদকেও এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

    গত কয়েক মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে অনেকটাই দূরত্ব বাড়িয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ইতিমধ্যেই তৃণমূল দল তাঁকে সাসপেন্ডও করেছে। হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ ছিল,ভরতপুর বিধানসভা এলাকার দু'জন ব্লক সভাপতি -মুস্তাফিজুর রহমান( সুমন) এবং নজরুল ইসলামের জন্য তিনি নিজের এলাকায় কাজ করতে পারছেন না। সাময়িকভাবে তৃণমূলের তরফ থেকে ওই দুই ব্লক সভাপতিকে তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও হুমায়ুন দল বিরোধী আচরণ শুরু করতেই ফের মুস্তাফিজুর রহমান এবং নজরুল ইসলামকে যথাক্রমে ভরতপুর -২ এবং ভরতপুর-১  ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনেন রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব।এবার ওই দুই ব্লক সভাপতিকেই এই নির্বাচনী কোর কমিটিতে স্থান দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব। 

    অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন জেলবন্দী রয়েছেন বড়ঞাঁর তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। বড়ঞাঁ উত্তর এবং দক্ষিণ, দুই সংগঠনিক ব্লক থেকে সেখানকার দুই ব্লক সভাপতি এই কোর কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। বড়ঞাঁ  থেকে এই কোর কমিটিতে স্থান পেয়েছেন জেলার রাজনীতিতে অপর হুমায়ুন বিরোধী নেতা মাহে আলম।  

    ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর  এবং মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রার্থী, নাড়ুগোপাল মুখার্জি এবং শাওনি সিংহ রায় পরাজিত হন। নাড়ুগোপালবাবু বর্তমানে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান এবং শাওনি সিংহ রায় মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কো-মেন্টর পদে রয়েছেন। তাঁদের দু'জনকেই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত বাকি যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়করা রয়েছেন তাঁরাও এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। 

    গত কয়েক মাস আগে ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে সেই আসনটি। যদিও তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্বের তরফ থেকে ডোমকলের কোনও স্থানীয় নেতাকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি। এই কমিটির গঠন দেখে অনেকেরই অনুমান রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় বড় কোনও রদবদল হবে না। গত নির্বাচনে যে প্রার্থীরা যে কেন্দ্রে লড়েছিলেন সম্ভবত তাঁরাই ফের একবার সেই কেন্দ্র থেকে টিকিট পেতে চলেছেন। 

    যদিও বড়ঞাঁ বিধানসভা কেন্দ্রটি সংরক্ষিত আসন হওয়ায় কোর কমিটিতে থাকা সেখানকার দুই ব্লক সভাপতির কেউই ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। 

    অন্যদিকে ভরতপুর, বড়ঞাঁর মতো আসনে হুমায়ুনের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মাহে আলম, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নজরুল ইসলামের মতো সংখ্যালঘু নেতাকে দায়িত্বে এনে তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের বহু আগে থেকেই জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুনকে কড়া বার্তা দিয়ে রাখল। অন্যদিকে তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে রেখেছেন তিনি রেজিনগর এবং বেলডাঙা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ওই দু'টি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বর্তমান দুই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তৃণমূল বিধায়ককেও এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করে জেইউপি দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুনের একের পর এক হুঙ্কার তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব হুমায়ুন বিরোধী সংখ্যালঘু নেতাদের দিয়েই যে মোকাবিলা করতে চলেছেন, তা এই সিদ্ধান্তে পরিষ্কার।   

    বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, "এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে কাজের দায়িত্ব অনেকের মধ্যে বন্টন করায় নির্বাচনী কাজের গতি আসবে।"

    তৃণমূল কংগ্রেসের লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন,  "প্রত্যেক বড় নির্বাচনের আগে একটি জেলাস্তরের নির্বাচনী কমিটি হয়। আজ সাংগঠনিক জেলা স্তরের নির্বাচনী কমিটি  ঘোষণা করা হয়েছে।"

    তিনি জানান, "দলের তরফ থেকে প্রত্যেক বিধানসভার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিধানসভার প্রার্থীকে আহ্বায়ক করে একটি বিধানসভা ভিত্তিক নির্বাচনী কমিটি তৈরি করা হবে।এই দুই কমিটি সমন্বয় রেখে গোটা বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা করবে।"

    ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, "তৃণমূল দলকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও শক্তিশালী করতে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট করার জন্য এই নির্বাচনী কমিটি কাজ করবে। "

    বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন, "নির্বাচনী কমিটি গঠন করার  মধ্যে দিয়ে আমাদের দলের রাজ্য নেতৃত্ব ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন। যে এলাকায় যেমন দরকার সেখানকার ইস্যু ভিত্তিক বিষয় নিয়ে এই কমিটি কাজ করবে।"
  • Link to this news (আজকাল)