• লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী, কৃষক প্রকল্পে বড় আপডেট! শুরু হচ্ছে বাড়ির সামনেই ক্যাম্প... জেনে নিন কোথায়-কখন-কী ভাবে-কারা আবেদন করবেন...
    ২৪ ঘন্টা | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং সরকারি প্রকল্পগুলিকে আরও সহজলভ্য করতে ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ রেজিস্ট্রেশন পর্ব ও শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। নিচে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হল:

    স্বনির্ভরতার পথে বাংলা: বিধানসভা ভিত্তিক বিশেষ ক্যাম্পে মিলবে যুবসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা

    রাজ্যের সাধারণ মানুষকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান এবং যুব সমাজকে স্বনির্ভর করতে আবারও তৎপর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে 'স্বনির্ভর বাংলা' গড়ার লক্ষ্যে শুরু হতে চলেছে বিশেষ রেজিস্ট্রেশন পর্ব। 

    আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    রেজিস্ট্রেশন ও ক্যাম্পের সময়সূচী

    সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশেষ শিবিরগুলি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ১৫ই ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ১৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ শুরু হতে পারে। সরকারি ছুটির দিন বাদে বাকি দিনগুলোতে এই পরিষেবা সচল থাকবে।

    যেসব প্রকল্পে মিলবে বিশেষ সুবিধা

    এই বিশেষ ক্যাম্পগুলির মাধ্যমে মূলত চারটি বড় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে:

    ১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প: রাজ্যের মহিলা উপভোক্তাদের জন্য খুশির খবর হলো, এই প্রকল্পের অধীনে মাসিক আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য মাসিক সহায়তা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি/উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য ১,২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৭০০ টাকা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৪২ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছেন।

    ২. বাংলার যুব-সাথী প্রকল্প: বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই সহায়তা সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে এবং আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো শুরু হবে।

    ৩. ক্ষেতমজুরদের জন্য বার্ষিক সহায়তা: যাদের নিজস্ব কৃষি জমি নেই এবং যারা 'কৃষকবন্ধু' প্রকল্পের সুবিধা পান না, এমন ক্ষেতমজুরদের জন্য বার্ষিক ৪,০০০ টাকা সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। এই টাকা প্রতি বছর খরিফ ও রবি মরশুমের শুরুতে ২,০০০ টাকা করে দুটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে।

    ৪. সেচের জলকর মকুব: কৃষকদের সুবিধার্থে পূর্বে ধার্য করা প্রতি একর ইঞ্চি পিছু ১৭ টাকা জলকর সম্পূর্ণরূপে মকুব করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১০.৬৬ লক্ষ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

    কী ভাবে জানবেন আপনার ক্যাম্পের অবস্থান?

    প্রযুক্তির সাহায্যে বাড়িতে বসেই আপনার বিধানসভা বা ব্লকের ক্যাম্পের অবস্থান জানা সম্ভব। এর জন্য সরকারি পোর্টাল apas.wb.gov.in-এ গিয়ে 'Find Your Camp' অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

    এরপর জেলা ও ব্লকের নাম নির্বাচন করলে নির্দিষ্ট স্থানের নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ২ নম্বর ব্লকের ক্যাম্পটি বসবে মাধবডির কৃষক বাজারের সামনে। যদি পোর্টালে 'Camp scheduling is under process' লেখা আসে, তবে বুঝতে হবে আপনার এলাকার তথ্য আপলোডের কাজ চলছে।

    প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সতর্কতা

    ক্যাম্পে যাওয়ার সময় আবেদনকারীদের অবশ্যই নিচের নথিগুলি (আসল ও ফটোকপি) সঙ্গে রাখতে হবে:

    ১. আধার কার্ড ও ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

    ২. জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate)।

    ৩. ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতা।

    ৪. মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড।

    যেকোনও প্রয়োজনে বা বিস্তারিত তথ্যের জন্য রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন নম্বর 18003450117 বা 033-22140152-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    রাজ্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য ধাপ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে নিকটবর্তী ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে নিজের নাম নথিবদ্ধ করা এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল গ্রহণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)