আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেম দিবসকে ঘিরে শহর জুড়ে বাড়তি সতর্কতার মধ্যেই বড় সাফল্য পেল Kolkata Police-এর ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ওয়াচ সেকশন। বিশেষ অ্যান্টি-ক্রাইম ড্রাইভ ও অন-রোড পুলিশিং অভিযানে পার্ক সার্কাস ও হেস্টিংস এলাকা থেকে মোট ছয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে গুজরাট যোগের অভিযোগ উঠেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল ডি.ডি.-র ওয়াচ সেকশনের বিশেষ দল। প্রেম দিবস উপলক্ষে শহরে ভিড় ও জনসমাগম বেশি থাকায় সম্ভাব্য অপরাধ রুখতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
প্রথম অভিযান চালানো হয় পার্ক সার্কাস এলাকায়। সেখান থেকে দু’জন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে পৃথক আরেকটি অভিযানে হেস্টিংস এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে শহরে সক্রিয় দুষ্কৃতী চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
গিরিশ পার্ক থানার মামলা নম্বর ১৩ (তারিখ: ২০.০১.২০২৬), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৩০৩(২) অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেন—
১. মোঃ শাহনওয়াজ ওরফে সানি (৩২), এন্টালি এলাকার বাসিন্দা।২. মোঃ সামির ওরফে দেবো (২২), কনভেন্ট লেন, এন্টালি এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে এদের কোনও যোগ আছে কি না।
পুলিশ সূত্রে দাবি, এদের মধ্যে প্রথম তিনজন গুজরাটের আনন্দ জেলার বাসিন্দা। চতুর্থজনের পরিচয় সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজখবর চলছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই চারজন শহরে একটি সংগঠিত দুষ্কৃতী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালাত।
আজকের এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের নগরপাল Supritim Sarkar স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শহর কলকাতায় কোনও অবস্থাতেই কোনও অপরাধকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। যেকোনও মূল্যে শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।” নগরপাল আরও জানান, উৎসব বা বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ছয়জনকেই শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তদন্তকারীদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের আরও সদস্যদের পরিচয় সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি শহরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক অপরাধের সঙ্গে এদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হবে।
ক্রমাগত অন-রোড পুলিশিং ও গোয়েন্দা নজরদারির ফলে শহরে অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি পুলিশ প্রশাসনের। বিশেষত ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতী চক্রের যোগসূত্র সামনে আসায় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। লক্ষ্য একটাই—শহর কলকাতার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।