• ভাঙা পড়ছে বালির ১৪০ বছরের প্রাচীন কেদারনাথ আরোগ্যভবন
    এই সময় | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সৌমিত্র ঘোষ, বালি

    অবশেষে ভাঙাই পড়ছে বালির কেদারনাথ আরোগ্যভবন। গত মঙ্গলবার থেকে কেদারনাথ হাসপাতালের ভাঙার কাজ শুরু করেছে এক ঠিকাদার সংস্থা। বালি পুরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায়, সেটিকে আর সংস্কার করার উপায় ছিল না। শিবপুর আইআইইএসটির বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে সমীক্ষা করিয়ে, তাঁদের পরামর্শেই কেদারনাথ হাসপাতালের বর্তমান ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ-সহ পুর ও নগরোন্নয়ন বিভাগের কাছে। নীতিগত ভাবে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলেও দাবি রানার। যদিও এখনও নতুন করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করতে কত খরচ হবে বা তার বিস্তারিত প্রজেক্ট রিপোর্ট এখনও তৈরি হয়নি বলেই জানিয়েছেন প্রশাসক বিধায়ক। এরই মধ্যে হাসপাতালের তিনতলা ভবন ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায়, অনেকেই নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

    গত প্রায় এক দশক ধরে শতবর্ষপ্রাচীন কেদারনাথ আরোগ্যভবনের অচলাবস্থা নিয়ে ক্ষোভের শেষ ছিল না বালির আপামর সাধারণ মানুষের। এক সময়ে নির্ভরযোগ্য প্রসূতি হাসপাতাল হিসেবে শুধু বালি নয়, তার সঙ্গে বেলুড়, লিলুয়া, বালি গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, ডোমজুড়, হুগলির ডানকুনি, চণ্ডীতলা, মশাট, শিয়াখালা পর্যন্ত গরিব প্রসূতিদের ভরসার জায়গা ছিল বালির কেদারনাথ আরোগ্যভবন। নামমাত্র খরচে সাধারণ প্রসূতিদের চিকিৎসা হতো এখানে। ছিল আইসিইউ, কেবিন-সহ প্রসূতি পরিষেবার সমস্ত আধুনিক ব্যবস্থা। ছিল আধুনিক আলট্রা সোনোগ্রাফি যন্ত্র থেকে শুরু করে অন্যান্য সরঞ্জাম। সে সব সরঞ্জামের বেশ কিছু বালি পুরসভা পরিচালিত লিলুয়া সিলভার জুবিলি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি সরঞ্জাম পুরসভায় সংরক্ষিত করে রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

    বালিতে জিটি রোডের উপরে প্রায় ৩০ কাঠা জমি রয়েছে কেদারনাথ আরোগ্যভবনের। কেদারনাথ মুখোপাধ্যায়ের পারিবারিক জমিতে ১৮৮৪ সালে গড়ে ওঠে এই হাসপাতাল। প্রাচীন এই হাসপাতালের অস্তিত্বই লোপ পাবে না তো? এই প্রশ্ন তুলেছেন বালির বাসিন্দাদের অনেকে। যদিও প্রশাসক বিধায়ক রানার আশ্বাস, 'সবাই নিশ্চিন্ত থাকুন, এখানে হাসপাতালই হবে। শুধু প্রসূতি নয়, আরও অন্য চিকিৎসা-সহ অত্যাধুনিক মানের শিশু চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। বালি ও আশপাশের সব মানুষ আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। বালি পুরসভার অধীনেই থাকবে এই হাসপাতাল।'

    জানা গিয়েছে, বরাবরই কেদারনাথ আরোগ্যভবনের পরিচালনাভার রয়েছে বালি পুরসভার হাতে। মাঝে ২০১৫ থেকে বালি পুরসভা হাওড়া পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত হলে, কেদারনাথের পরিচালনাও হাওড়া পুরনিগমের হাতে চলে যায়। তখন থেকেই অবনমন শুরু হয় হাসপাতালের। পরিচালন কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পরিষেবার মান পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে সব দিক থেকেই প্রসূতি হাসপাতালের পরিকাঠামো ভেঙে পড়তে থাকে। কমতে থাকে রোগিণীর সংখ্যাও। তবু এখানে নিযুক্ত নার্স ও চিকিৎসকদের চেষ্টায় কোনওমতে পরিষেবা চলছিল। এর পরে ২০২১-এ ফের বালি পুরসভা হাওড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, কেদারনাথের পরিচালনাও আসে বালি পুরসভার হাতেই। কিন্তু তাতে রোগ সারেনি শতাব্দীপ্রাচীন হাসপাতালের। কারণ, তত দিনে অন্যান্য সমস্যা-সহ অর্থ ও কর্মী সঙ্কটে বালি পুরসভাও বেহাল হয়ে পড়েছে। নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায়, বালি পুরসভার সার্বিক পরিষেবার মান তলানিতে পৌঁছে যায়। বাদ যায়নি কেদারনাথ হাসপাতালও। গত কয়েক বছরে ওই হাসপাতালে প্রসূতি ভর্তি ও মাতৃত্ব পরিষেবা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। টিমটিম করে চলছিল হাসপাতালের আউটডোর।

  • Link to this news (এই সময়)