• অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ন্ত্রণে আসছে ব্যবহার-বিধি
    আনন্দবাজার | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স’ এবং শারীরিক পরীক্ষা করানোর আগেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের প্রবণতা আটকাতে নতুন নির্দেশিকা আনতে চলেছে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ’ (আইসিএমআর)। জোরকদমে সেই গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে বলে শনিবার কলকাতায় এসে জানালেন আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব বহেল।

    এ দিন বেলেঘাটায় আইসিএমআরের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাক্টিরিয়াল ইনফেকশন’ (এনআইআরবিআই) ভবন প্রাঙ্গণে ওআরএসের পথ প্রদর্শক, বাঙালি চিকিৎসক ও গবেষক দিলীপ মহলানবীশের আবক্ষ মূর্তির উদ্বোধন করেন রাজীব। তিনি বলেন, ‘‘ওঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছি। তা থেকে অনেক অভিজ্ঞতা ও প্রেরণা সঞ্চয় করেছি।’’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, এনআইআরবিআই-এর অধিকর্তা শান্তসবুজ দাশ এবং অন্য গবেষক ও চিকিৎসকেরাও ছিলেন।

    দেশ জুড়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজ়িস্ট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজীব। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর, কাশি থেকে পেটের অসুখ-সহ যে কোনও সমস্যাতেই নিজের ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে নেন অনেকেই। আবার, অনেকের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের নির্দিষ্ট কোর্স শেষ না করার প্রবণতাও দেখা যায়। এই অভ্যাসই ডেকে আনছে বড়সড় বিপদ। কারণ, যে অ্যান্টিবায়োটিকের রোগ সারানোর কথা, সেই ওষুধই ক্রমশ প্রতিরোধী করে তুলছে শরীরকে।

    অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স এখন দেশের পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন রাজীব। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা যাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যাচ্ছে, রোগের প্রকৃত কারণ পরীক্ষা না করিয়েই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের এ হেন অতি ব্যবহার বা অপব্যবহারে জীবাণু ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। যার ফলে, ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে ওঠার মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণেই অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার বা অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার প্রতিরোধ করতে নতুন গাইডলাইন আনার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান রাজীব।

    আইসিএমআর সূত্রের খবর, রোগীর অসুস্থতা ব্যাক্টিরিয়া সংক্রমণের কারণে বলে সন্দেহ করলেন তাঁর চিকিৎসক। কিন্তু সেটি কোন জাতীয় ব্যাক্টিরিয়া, তা একমাত্র বোঝা সম্ভব ব্যাক্টিরিয়া কালচার পরীক্ষা করে। সেই পরীক্ষার আগে কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ঠিক হবে, সেই সম্পর্কেও বলা থাকবে ওই প্রস্তাবিত গাইডলাইনে। কোন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক পাল্টাতে হবে, কত দিন তা চালানো প্রয়োজন, গাইডলাইনে তারও বৈজ্ঞানিক দিশা থাকবে। চিকিৎসকদের মতে, গাইডলাইন মানা হলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

    সম্প্রতি রাজ্যে দুই নার্সের নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে রাজীব জানান, অযথা আতঙ্কের কারণ নেই। বরং প্রথম থেকে সতর্ক হলে সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। মৃত তরুণী নার্স নিপা ভাইরাস নেগেটিভ হয়ে গিয়েছিলেন বলেও তিনি জানান। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্য সরকার খুব ভাল কাজ করেছে বলেও প্রশংসা করেন রাজীব।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)