সচেতনতার প্রচার, নিয়ম ভঙ্গে মামলা রুজুর মতো পদক্ষেপ সত্ত্বেও নিউ টাউনে দুর্ঘটনা অব্যাহত। শনিবার ভোরে ইকো পার্ক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথ-বিভাজিকায় ধাক্কা মেরে উল্টে যায় একটি গাড়ি। ওই ঘটনায় দুই মহিলা-সহ তিন জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এ বছরের জানুয়ারিতে নিউ টাউনে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পাঁচ জনের। ফেব্রুয়ারিতেও দুর্ঘটনা অব্যাহত। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত নিউ টাউনে পথ দুর্ঘটনার বলি ছ’জন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন ভোরে চিনার পার্কের দিক থেকে বিশ্ব বাংলা গেটের দিকে যাওয়ার সময়ে ঘটে দুর্ঘটনাটি। গাড়িটি প্রথমে ইকো পার্কের দু’নম্বর গেট সংলগ্ন বাস স্টপে ধাক্কা মেরে এগিয়ে যায়। ফের ইকো পার্কের এক নম্বর গেটের পরের সিগন্যালে পথ-বিভাজিকায় ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। ছুটে যান পুলিশকর্মী এবং স্থানীয়েরা। গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুই মহিলা ও এক জন পুরুষকে। তাঁদের সকলেরই আঘাত লেগেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিনের দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে ছুটছিল। নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারায় এই দুর্ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যে গতিতে গাড়ি চলছিল, তাতে চালক কতটা প্রকৃতিস্থ ছিলেন, তা তদন্তসাপেক্ষ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ভোরে বা বেশি রাতে ট্র্যাফিক পুলিশের নজরদারি কমলে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায়।
কিছু দিন আগে মোটরবাইক চালিয়ে ইকো স্পেসের দিক থেকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন এক যুবক। ইকো স্পেসের কাছে রাস্তায় একটি স্পিড ব্রেকার দূর থেকে দেখতে না পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। এর পরেই পুলিশ স্পিড ব্রেকারের মাঝে সাদা রঙের প্রলেপ দিতে উদ্যোগী হয়। বসানো হয় গার্ডরেল।
পুলিশের দাবি, গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত গাড়ি পরীক্ষা, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ, সচেতনতার প্রচার, সবই হচ্ছে। তার পরেও হেলমেট না পরা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা থেকেই যাচ্ছে।