ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে চারহাত এক করতে যাচ্ছিল যুগল। কিন্তু তার আগেই বিপত্তি। যুবকের স্কুটার থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র। এর পরেই তাঁকে আটক করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের (Bardhaman Town) গোলাপবাগ এলাকায়। কিন্তু বিয়ে করতে যাওয়ার আগে কেউ কেন স্কুটারে আগ্নেয়াস্ত্র রাখবে? তবে কি ওই যুগলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? ঘটনার তদন্তে নেমে তরুণীর মামাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম শ্রীকান্ত দাস (৫০)।
জানা গিয়েছে, ওই তরুণী চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। শুক্রবার তাঁর দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে বিয়ের প্ল্যান করা হয়। শনিবার তাঁর কোনও পরীক্ষা ছিল না। প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। অন্য দিকে, প্রেমিক চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রেম দিবসে রেজিস্ট্রি অফিসে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
এ দিকে পুলিশকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জানান, শহরের একটি স্কুটারে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে থাকা হবু বরের স্কুটারে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে একটি রিভলভার। পুলিশ যুগলটিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, এই বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। তাঁরা শুধু নিজের বিয়ের জন্য রেজিস্ট্রি করতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশের সন্দেহ হয় , হয়তো ওই যুগলকে ফাঁসানোর জন্যই কেউ ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি যুবকের স্কুটারে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছিল, কেন ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল তাঁদের? কারা করছিল চক্রান্ত? তাদের হাতেই বা এই আগ্নেয়াস্ত্র এল কোথা থেকে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে ব্যক্তিগত বন্ডে ওই প্রমিক যুগলকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এ দিন তাঁরা পরিকল্পনা মতো বিয়ে করতে পারেননি।
এ দিকে তদন্তকারীর নজর যায় তরুণীর পরিবারের সদস্যদের দিকে। জানা যায়, শ্রীকান্ত ভাগ্নির বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন। আর সেই কারণেই এই চক্রান্ত। কোথা থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র পেলেন তিনি? তাঁকে হেফাজতে নিয়ে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।