জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শিবরাত্রিতেই (Shivaratri 2026) শুভ যোগ? না, কোনও জ্যোতিষশাস্ত্রের লেখা নয়। এটি সম্পূর্ণ লক্ষ্মীর ভান্ডার (Laxmi Bhandar) ও যুবসাথী (Yubasathi) প্রকল্পের প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে। আজ, রবিবার ১৫ জানুয়ারির সরকারি ছুটির দিনেই শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ঘোষিত 'যুবসাথী' প্রকল্পের ফর্ম বিলির কাজ। নবান্নের বিশেষ নির্দেশ, জেলায় জেলায় বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে যুবসাথী ও ক্ষেতমজুরদের ভাতা সংক্রান্ত আবেদনপত্র বিলি ও জমা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, 'লক্ষ্মীর ভান্ডারে'র নতুন আবেদনও গ্রহণ করা হবে।
'দুয়ারে সরকার'-এর আদলে
এই পুরো কর্মসূচি 'দুয়ারে সরকারে'র আদলে পরিচালিত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যএই যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রকল্পটি কার্যকর হবে ১ এপ্রিল থেকেই। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনপত্র বিলির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আজ, রবিবার থেকেই শুরু হল সেই প্রক্রিয়া।
যুবসাথী এবং
যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। কর্মসংস্থান না-পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এঁদের। অন্য দিকে, ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে ৪০০০ টাকার ভাতা দেওয়ার আবেদনও নেওয়া হবে।
প্রকল্পের এসওপি
শহর ও শহরতলিতে বিধানসভাভিত্তিক একটি করে শিবির আয়োজিত হবে। গ্রামীণ এলাকায় ব্লকভিত্তিক দু’টি করে শিবির এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে পৃথক ভাবে। শিবির পরিচালনা নিয়ে শনিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে যুবসাথী ও খেতমজুর ভাতা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) এবং আবেদনপত্রের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
প্রয়োজনীয় নথি
এই ধরনের ক্যাম্পে যাওয়ার সময়ে যে কোনও প্রকল্পে আবেদনকারীদের অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে এই সব নথি (প্রকৃত, সঙ্গে ফোটোকপি):
১. আধার কার্ড
২. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৩. জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate)
৪. ব্যাংকের পাসবই (সঙ্গে এর প্রথম পাতার ফোটোকপি)
৫. মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্।
প্রকল্প-পরিচয়
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: এই প্রকল্প রাজ্যের মহিলা উপভোক্তাদের জন্য। সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য মাসিক সহায়তা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা, তফসিলি জাতি/উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য ১২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০০ টাকা করা হয়েছে।
বাংলার যুব-সাথী প্রকল্প: বেকার যুবক-যুবতীদের জন্যই এই প্রকল্প। মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে।
ক্ষেতমজুরদের জন্য বার্ষিক সহায়তা: যাঁদের নিজস্ব কৃষিজমি নেই এবং যাঁরা 'কৃষকবন্ধু' প্রকল্পের সুবিধা পান না, এমন ক্ষেতমজুরদের জন্য বার্ষিক ৪০০০ টাকা সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই টাকা প্রতি বছর খরিফ ও রবি মরশুমের শুরুতে ২০০০ টাকা করে দুটি কিস্তিতে দেওয়া হবে।
সেচের জলকর মকুব: কৃষকদের সুবিধার্থে পূর্বে ধার্য করা জলকর সম্পূর্ণরূপে মকুব করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১০.৬৬ লক্ষ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।