• প্র্যাকটিক্যালে মোটে ৫ নম্বর! অবসাদে হস্টেলের বাথরুমেই শেষ ডাক্তারি পড়ুয়া লাবণ্য...
    ২৪ ঘন্টা | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • চিত্তরঞ্জন দাস: ফের মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রের রহস্যমৃত্যু। আই কিউ সিটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের বাথরুম থেকে ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। ঘটনার খবর পেয়ে পৌছায় দুর্গাপুর থানার পুলিস। পুলিস পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। মৃত ছাত্রের নাম লাবণ্য প্রতাপ (২২)। প্রথম বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়া ছিল। বিহারের পটনার বাসিন্দা। এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে এলাকায়। 

    মৃতদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। রবিবার সকালে আসে মৃত পড়ুয়ার বাবা অনিল কুমার ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। অনিল বাবুর বক্তব্য, 'ছেলেকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু ও ধরেনি। তারপর ওর বন্ধুদের ফোন করে জানতে পারি। ছেলে প্রথম বর্ষের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করে। ছেলে আমার স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু ও বলত যে কলেজের শিক্ষকরা পড়ুয়াদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করত না। লিখিত পরীক্ষায় ৫০ পাচ্ছে, কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় অথচ ৫ নম্বর পাচ্ছে।'

    অন্যদিকে, পুলিস সূত্রে খবর, লাবণ্য মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর আগে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আসে, ময়নাতদন্তের জন্য দেহ আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

    উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে চরম পদক্ষেপ নেন পড়ুয়া। হোস্টেলের নয় তলা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ২১ বছর বয়সী ওই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। পুলিস জানিয়েছে, মৃত নমন আগরওয়াল রাজস্থানের বাসিন্দা ছিলেন।

    সিসিটিভি ফুটেজে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিসি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, রাত ১টা ১৭ মিনিটে ঝাঁপ দেওয়ার আগে ওই ছাত্র হস্টেলের ছাদে প্রায় ১০ মিনিট একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে রাজাবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    উদ্ধার হয় সুইসাইড নোটও। মৃত ছাত্রের ঘর তল্লাশি করে একটি হাতে লেখা চিরকুট পেয়েছে পুলিস। সেখানে লেখা ছিল, 'এই পৃথিবী আমার জন্য নয়, আমি মানসিক অবসাদে ভুগছি।' হাতের লেখাটি ওই ছাত্রেরই কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই ছাত্র পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিলেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেমিস্টারে তাঁর ফলাফলও ছিল সন্তোষজনক। এমনকি সব অ্যাসাইনমেন্ট তিনি সময়মতো জমা দিতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ‘ডিপ্রেশন’ বা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই কারণে তিনি ক্যাম্পাসের ‘স্টুডেন্ট ওয়েলনেস সেন্টার’-এ কাউন্সেলিং বা পরামর্শও নিয়েছিলেন।

    মৃতের এক আত্মীয় জানান, তাদের পরিবার যথেষ্ট শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল। এমন একটি ঘটনা ঘটবে তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। ময়নাতদন্ত শেষে ছাত্রের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ... 


    iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১


    কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭


    ২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)