• চিকিৎসকরা মিলে গড়ে তোলেন আস্ত জঙ্গি গোষ্ঠী, দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি NIA-র
    এই সময় | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • লালকেল্লায় গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় একের পর এক চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছে। তার পর থেকেই ‘হোয়াইট কলার টেররিজম’ (white collar terror module India) নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে NIA (National Investigation Agency)। তাতেই উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, ‘আনসার ইন্টেরিম’ (Ansar Interim) নামে একটা আস্ত জঙ্গি সংগঠন খুলে বসেছিল চিকিৎসকদের একাংশ। চিকিৎসকদের পাশাপাশি এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মুসলিম ধর্মগুরুদের অনেকেই। তদন্তকারীদের অভিযোগ এমনই।

    NIA-এর তদন্তকারীদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতা চালানোই লক্ষ্য ছিল ‘আনসার ইন্টারিম’-এর। একই সঙ্গে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিও টার্গেট ছিল তাদের। বিশ্বের বহু জঙ্গি সংগঠনের নামই শুরু হচ্ছে ‘আনসার’ দিয়ে। এটা মূলত আরবি শব্দ। এর অর্থ ‘রক্ষাকারী’। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আল কায়দার আদর্শে অনুপ্রাণিত সংগঠনগুলি এই নাম নেয়। এটা একটা ব্র্যান্ডিংয়ের মতো। বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকে যে, তারা আল কায়দার সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত।

    তদন্তে উঠে এসেছে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের আগে শ্রীনগরের একটি ইদগাহে বৈঠকে বসেছিল মুজাম্মিল গনি, উমর উন নবি (লালকেল্লা বিস্ফোরণে আত্মঘাতী জঙ্গি), আদিল রাঠার, তার ভাই মুজাফ্ফর রাঠার, তুফাইল গাজি, ক্কারি আমির এবং মৌলভি ইরফান আহমেদ। সেখানেই গঠন করা হয় ‘আনসার ইন্টারিম’। আদিলকে সংগঠনের প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। মৌলভি ইরফান হন তাঁর সহকারী আর গনি কোষাধ্যক্ষ।

    লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ‘আনসার ইন্টারিম’ জঙ্গি সংগঠনের। ওই হামলার আত্মঘাতী জঙ্গি উমর উন নবি এই সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। গনির সঙ্গে মিলে অর্থ সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে, বিস্ফোরক জোগাড়ের দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। ২০২৩-এ হরিয়ানার সোহা এবং নূর থেকে বিপুল রাসায়নিক কেনেন তারা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অনলাইনে ভিডিয়ো দেখে IED তৈরির প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিল উমর।

    সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য রিক্রুট করত আদিল। দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে সে দানিশকে দলে টানে। তাকে নিয়ে যায় আল ফালাহ ইউনিভার্সিটির পাশের একটি ভাড়া বাড়িতে। সেখানে বিস্ফোরক তৈরি হতো। লালকেল্লার সামনে দানিশেরই আত্মঘাতী হামলা করার কথা ছিল। উমর তাকে রাজিও করিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সংসারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা বলে পরে সে পিছিয়ে যায়। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোষ্ঠীর মধ্যে উগ্রপন্থায় সবচেয়ে বেশি প্রাভাবিত ছিল উমর। শেষ পর্যন্ত সে আত্মঘাতী হামলা করে।

  • Link to this news (এই সময়)