ময়ালের মতো জড়িয়ে বটের ঝুরি, রোজই ভাঙছে টেরাকোটার তৈরি বাণেশ্বর মন্দির
বর্তমান | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টেরাকোটার মন্দির দেখতে বিদেশ থেকেও এ রাজ্যের বাঁকুড়া বা অন্যান্য জায়গায় আসেন বহু পর্যটক। এমনই সেগুলির সৌন্দর্য। কলকাতাতেও আছে টেরাকোটার মন্দির। কিন্তু তার দিকে কারও নজর নেই। বটের ঝুরি ময়ালের মতো আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ক্রমশ ভেঙে ফেলছে সেটিকে। যে কোনওদিন হুড়মুড়িয়ে মাটিতে পড়তে পারে বহু প্রাচীন দেবস্থানটি। গ্রেড ওয়ান তকমা দেওয়া হয়েছে সেটিকে। কিন্তু সারানোর কোনো উদ্যোগ নেই। কুমোরটুলিতে গেলে চোখে পড়বে বাণেশ্বর শিবের এই দেবস্থান।
জংলা গাছে, বটের ঝুরিতে ঢাকা সে টেরাকোটার শিবমন্দির। সেটি শহরের দ্রষ্টব্য স্থানগুলির অন্যতম। আকারে বিশাল। খসে পড়েছে পলেস্তরা। কঙ্কালসার চেহারা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবস্থা অত্যন্ত করুণ। স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, ইতিহাসপ্রসিদ্ধ শিবমন্দির দ্রুত সংস্কারের দরকার। না হলে হারিয়ে যাবে একটি ইতিহাস।
ইতিহাস জানায়, বনমালী সরকার ছিলেন তখনকার কলকাতার এক ধনী ব্যক্তি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডেপুটি ট্রেডার ছিলেন। তাঁর নামে কুমোরটুলিতে রাস্তা আছে। সেখানে তৈরি করেছিলেন বিশাল অট্টালিকা। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাধাকৃষ্ণ মন্দির। এবং বাণেশ্বর শিবমন্দির। সেই মন্দির ঘিরে বহু কাহিনি, বহু গল্প, বহু কিংবদন্তি। এককালে দ্রষ্টব্য স্থানগুলির অন্যতম ছিল সেটি। টেরাকোটার কাজ দেখতে আসতেন অনেকে। পুজো দিতেন। তবে কলকাতার অধিকাংশ দেখার জিনিস যেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখভালের অভাবে, সদিচ্ছার অভাবে, তেমনই ধ্বংসের পথে কুমোরটুলির বাণেশ্বর শিবমন্দিরও।
মন্দিরের পূজারি বিভাস নায়ক বলেন, ‘প্রতি সোমবার সকালে মন্দির খোলা হয়। পুজো দিতে আসেন মানুষ। বহু দূর থেকেও লোকজন আসেন। সপ্তাহের অন্য দিনগুলিতে সকাল‑সন্ধ্যা পুজো ও আরতি হয়। শিবরাত্রি ও নীলষষ্ঠীতে হয় বিশেষ পুজো ও হোম।
এখন মন্দির জীর্ণ, ভগ্ন, মৃতপ্রায়। হেরিটেজ স্থাপত্যটির প্রতি কারোরই নজর দেওয়ার সময় নেই। ফলে ভাঙছে প্রাচীন এবং অসাধারণ একটি দেবস্থান। যে কোনোদিন যাবতীয় ঐতিহ্য, সব সৌন্দর্য আর অমূল্য কাজ সমেত মাটিতে গড়িয়ে পড়তে পারে। সেদিন আবারও ইতিহাসের একটি পাতা খসে পড়বে।। সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে কলকাতা থেকে। তখন হাজার কোটি টাকা দিলেও মিলবে না বাণেশ্বর শিবের মন্দিরটিকে। হতাশ কুমোরটুলি সে আশঙ্কাই জানিয়ে চলেছে।