ইন্দ্রজিৎ সাহু: সবুজ পাতাকে ক্যানভাস বানিয়ে একের পর এক প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে নজির গড়ছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার বামনদা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার পড়িয়া। দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, সকলের মুখচ্ছবি তাঁর হাতে জীবন্ত হয়ে উঠছে পাতা কাটার সূক্ষ্ম শিল্পে।
পেশায় গৃহ শিক্ষক সঞ্জয় কুমার পড়িয়া টিউশনি করেই সংসার চালান। তবে ভিন্নধর্মী শিল্পচর্চার ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাঁর পত্রশিল্পের পথচলা। লকডাউনের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি পাতা কেটে বিভিন্ন প্রতিকৃতি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রথমে শখের বসে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ শিল্পে। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মনীষী,কবি-সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি তৈরি করতে থাকেন। কোনও পাতার উপরে ফুটে উঠেছে চৈতন্যদেবের মুখ, কোথাও আবার ফুটে উঠেছে নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি। ছোট পাতার মধ্যেই নিখুঁত মুখাবয়ব।
ইতিমধ্যেই প্রায় হাজারেরও বেশি প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন তিনি শুধুমাত্র সবুজ পাতা ব্যবহার করে। এত বিপুল সংখ্যক প্রতিকৃতি তৈরি করে জেলার পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও নজির গড়েছেন এই শিল্পী।
তাঁর এই অভিনব শিল্পকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস ও ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস-এর সম্মান। বিভিন্ন মহলে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে।গৃহ শিক্ষকতার ফাঁকে কখনও গভীর রাতে, কখনও ভোরবেলায় চলে তাঁর এই শিল্পচর্চা।
বর্তমানে আয়ের একটি পথ হিসেবেও তিনি পত্রশিল্পকে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সীমিত উপকরণে এমন অনন্য শিল্পসৃষ্টি সত্যিই বিরল এবং গর্বের বিষয়। তাঁর কাজ ছড়িয়ে পড়েছে বহু মানুষের মধ্যে।