ভিন রাজ্যে হেনস্থা, ট্রেন থেকে ধাক্কা বাঙালি যুবককে?
আজকাল | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে, একেবারে পরপর উঠে এসেছে একগুচ্ছ অভিযোগ। বাংলার মানুষদের, বাংলায় কথা বলার অপরাধে ভিন রাজ্যে বারেবারে নানা হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ খুনের। এখনও পুরুলিয়ার সুখেন মাহাতো খুনের রেশ কাটেনি। তার মাঝেই ফের ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থার অভিযোগ। অভিযোগ, বেঙ্গালুরু থেকে ফিরছিলেন মুর্শিদাবাদের যুবক। মাথপথে তাঁর পরিচয়পত্র চায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক। তিনি পরিচয় পত্র দেখালে, তাঁকে একপ্রকার ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, ওই যুবক ফিরছিলেন বেঙ্গালুরু থেকে। বেলদার কাছে বাঁকড়াবাদে ট্রেনের মধ্যেই আচমকা পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। যুবক প্যান কার্ড এবং আধার কার্ড দেখান বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তারপরেই তাঁকে ট্রেন থেকে একপ্রকার ঢাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, বেলদা থানার পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে, বেলদা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসা হয়েছে তাঁর। যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় চোট, তথ্য তেমনটাই।
ওই যুবকের নাম শেখ মণিরুল। যুবক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে ধাক্কা দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রাণে মারার চেশটা করা হয়। হাতে, পায়ে এবং বুকে চোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মণিরুল নিজেই।
ঘটনায় সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছে। তাতে লেখা হয়েছে, 'পুণেতে সুখেন মাহাতোর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর, বিজেপিজোর দিয়ে বলেছে যে বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে কোনও পরিচয়-ভিত্তিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে না। ' তারপরেই এই ঘটনার উল্লেখ পোস্টে।
এর আগে, বুধবারেই সামনে আসে সুখেন মাহাতোর মৃত্যুর ঘটনা। নিহত সুখেন মাহাতো পুরুলিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। কর্মসূত্রে থাকতেন মহারাষ্ট্রের পুণেতে। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডিতে। পুরুলিয়ার ৭৮ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। নিহত ওই পরিযায়ী শ্রমিক তাঁর দাদার সঙ্গেই একই গাড়ির পার্টস তৈরির কোম্পানিতে কাজ করতেন। তাঁর ছোট ভাই কাজ করতেন একটি ওয়েল্ডিং কারখানায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ফের ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থার। ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
অভিষেক ব্যানার্জি শুক্রবার যান সুখেন মাহাতোর বাড়ি। তাঁর বাড়িতে দাঁড়িয়েই ক্রমাগত ঘটে চলা ঘটনাবলী নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার পরেই সামনে এল মণিরুলের ঘটনা।