মিল্টন সেন, হুগলি,১৫ ফেব্রুয়ারি: জেলা জুড়ে জোর কদমে চলছে সহায়তা শিবির। আগামী ১ লা এপ্রিল থেকে টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে। ভোটের আগেই বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের সহায়তা পাবেন উপভোক্তা। দ্রুততার সঙ্গে হুগলিতে শুরু হয়েছে যুবসাথীর কাজ। একাধিক সরকারি শিবিরে চলছে ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ।
রবিবার চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে থেকে খোলা হয় সহায়তা শিবির। হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার প্রতিনিধিরা সাহায্য করছেন উপভোক্তাদের। ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেওয়ার কাজ চলছে। জানানো হয়েছে আগামী দশ দিন ধরে চলবে ওই শিবির। শিবিরের কাজ তদারকি করছেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। সকাল থেকে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন শিবিরে।
চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় খোলা হয়েছে মোট চারটি শিবির। উপভোক্তা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক সমতুল পাশ যুবক যুবতীরা সকাল থেকে লাইন দিয়েছে যুব ভাতা পেতে। এদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তারা বলছে, "বেকার আছি, এরকম কিছু ভাতা পাব ভাবিনি। এটা খুবই ভালো।" আবার কেউ বলছে, " চাকরির প্রস্তুতি ফর্ম ফিলাপ করার কাজে লাগবে টাকা।"
অনেক কলেজ পড়ুয়াও আছেন, যাঁদের পরিবহন খরচ চলবে এই ভাতায়। কেউ আবার উচ্চশিক্ষার কাজে ব্যবহার করবেন এই ভাতার টাকা। কেউ বলছেন, চাকরি প্রয়োজন, কিন্তু এর সঙ্গে ভাতার কোনও সম্পর্ক নেই। এদিন পিএইচডি করছেন যুবক তুহীন কুমার নাথ, তাঁকেও দেখা গেলো ভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে। এমনকী ফর্ম ফিলাপ করার পর স্নাতক এক যুবক বলেন, "চাকরি চাই, কিন্তু ভাতা পেলে সেটা নিতে অসুবিধা নেই।"
উল্লেখ্য, যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই উপচে পড়ল ভিড়। রবিবার থেকে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবির।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ শিবির, যেখানে যুবসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভান্ডার ও খেতমজুরদের জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
রবিবার ধূপগুড়ি মহকুমায় মোট তিনটি শিবির বসানো হয়। পুরসভা এলাকার জন্য ঘোষপাড়া মোড় পুরভবন এবং রেগুলেটেড মার্কেটে মহকুমাশাসকের দপ্তরে শিবির হয়।
পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিডিও অফিসে আলাদা শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম দিনেই সকাল থেকে যুবক-যুবতিদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। বহু আবেদনকারী যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করে তা ফিল-আপ করে জমা দেন।
শিবিরগুলির কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে এদিন উপস্থিত ছিলেন ধূপগুড়ির মহকুমাশাসক শ্রদ্ধা সুব্বা। পাশাপাশি পুরসভা এলাকার শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং। তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে যুবক-যুবতীদের ফর্ম ফিল-আপে সহায়তা করেন।
শিবিরে আবেদন জমা দিতে এসে এক যুবক বলেন, বেকার যুবকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মাসিক ১,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ, যা পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে অনেকটাই সাহায্য করবে।
প্রসঙ্গত, যুবসাথী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যুবক-যুবতিদের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি কিংবা স্বনির্ভর হওয়ার পথে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
সারা জীবন ভাতা নির্ভর করে থাকার জন্য নয়, বরং আত্মনির্ভর করে ওঠার লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই এই শিবিরের নামকরণ করা হয়েছে ‘স্বনির্ভর বাংলা’।
লম্বা লাইন চোখে পড়েছে সোনারপুর এবং আসানসোলেও। সোনারপুর উত্তর বিধানসভায় একাধিক শিবিরে বেকার যুবক-যুবতীরা সকাল থেকে যুবসাথীর ফর্ম ফিল-আপের জন্য লাইন দিয়েছেন।
একই ছবি ধরা পড়েছে আসানসোলেও। স্বনির্ভর বাংলার শিবিরে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। তার পাশাপাশি এদিন যুবসাথীর জন্যও বিপুল চাহিদা দেখা গিয়েছে।