অরূপ লাহা: উচ্চমাধ্যমিকের মাঝেই বিয়ে। ভ্যালেন্টাইস ডে-তে প্রেমিককে নিয়ে যখন সোজা রেজিস্ট্রি অফিসে তরুণী, তখন বিয়ে আটকাতে পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেললেন মামাও! প্রেমিকের স্কুটির ডিকি থেকে মিলল আগ্নেয়াস্ত্র। পুলিসের জালে হবু দম্পত্তি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানে।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক। শনিবার ভ্যালেন্টাইন ডে-তে পরীক্ষা ছিল না। পুলিস সূত্রে খবর, ওই তরুণী এবছর উচ্চমাধ্যমিক দিচ্ছে। তার প্রেমিক চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিকভাবে বিয়ে নয়। তবে রেজিস্ট্রি সেরে রাখার পরিকল্পনা ছিল দু'জনের। ভ্যালেন্টাইন ডে স্কুটিতে চেপে বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ মোড়ে রেজিস্ট্রি অফিসে উদ্দেশে রওনা হয় ওই প্রেমিক যুগল।
এদিকে গোপন সূত্রে পুলিস খবর পায় যে, বর্ধমান শহরেই একটি স্কুটিতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। যথারীতি শুরু হয় নজরদারি। বস্তুত, গোলাপবাগে মোড়ে স্কুটিটি চিহ্নিতও করে ফেলেন পুলিস। এরপর রীতিমতো ওত পেতে আটক করা হয় ওই তরুণী ও তার প্রেমিককে। এরপর তল্লাশি সময়ে স্কুটির ডিকি থেকে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনার হতবাক হয়ে যায় হবু দম্পতি।
পুলিস জেরায় ওই প্রেমিক যুগল জানান, আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণাই নেই। শুধুমাত্র বিয়ের রেজিস্ট্রর নোটিশ দিতেই যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্দেহ হয় পুলিসেরও। শেষে জানা যায়, ভাগ্নীর বিয়ে আটকাতে পরিকল্পনা করেই স্কুটিটি আগেয়াস্ত্র রেখে দিয়েছিলেন ওই তরুণীর মামা শ্রীকান্ত দাস। গ্রেফতারও করা হয় তাঁকে ও তাঁর সহযোগীকে। পুলিস সূত্রে খবর, জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে শ্রীকান্ত জানিয়েছেন, ভাগ্নীর বিয়ে মেনে নিতে পারছিলেন না। বিয়ে আটকাতে পরিকল্পনামাফিক এই কাজ করেছেন। ধৃতকে ২ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ব্য়ক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছে ওই প্রেমিকযুগর।
দেশের মধ্যে প্রথম। এবছর থেকে উচ্চমাধ্যমিকে চালু হয়ে গিয়েছে সেমিস্টার। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা হয়েছে। এবার চতুর্থ সেমিস্টার। বদলে গিয়েছে নিয়মও। পরীক্ষায় অতিরিক্ত পাতা নিতে পারবে না পরীক্ষার্থীরা। উত্তর এমনভাবে লিখতে হবে, যাতে অতিরিক্ত পাতা না লাগে। চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ২৪ পাতার উত্তরপত্র। আর তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা যারা দিচ্ছে,তাঁদের জন্য ১৬ পাতার উত্তরপত্র। বেড়েছে বিকল্প প্রশ্নের সংখ্যাও।