বিধান সরকার: ভোটমুখী বাংলায় এসে হাজির উত্তরপ্রদেশের যুবক। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাকি সমীক্ষা চালাচ্ছেন তিনি! সন্দেহ হওয়ায় ওই যুবককে পুলিসের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় তৃণমূলকর্মীরা। চাঞ্চল্য হুগলির দেবানন্দপুরে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই যুবকের নাম বিকাশ শর্মা। গত কয়েক দিন ধরে দেবানন্দপুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। অভিযোগ, একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাম করে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালাচ্ছেন বিকাশ। কোন দলের প্রার্থীকে পছন্দ? কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভাল? বিধায়কের কাজে কি খুশি? এলাকার লোকের কাছে জানতে চাইছেন তিনি। তাও আবার একটি মোবাইল অ্য়াপের মাধ্য়মে!
ঘটনাটি জানতে পেরেই তত্পর হন স্থানীয় তৃণমূলকর্মীরা। আজ, রবিবার যখন সমীক্ষা চালাচ্ছিলেন, তখন বিকাশকে পালটা জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন তাঁরা। তাঁর কাছ থেকে একটি আইডি কার্ডও পাওয়া যায়। তৃণমূলকর্মীদের দাবি, ওই আইডি কার্ডের একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাম লেখা রয়েছে। ঠিকানা, হরিয়ানার গুরুগ্রাম। ওই যুবকের পরিচিতি সার্ভেয়ার বা সমীক্ষক।
দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পীযূষ ধর বলেন,'বাইরের রাজ্য থেকে এক যুবক এসে বাড়িতে ঢুকে পরছে। নানা ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছে। সবই বিজেপি হয়ে করা মনে হচ্ছে। এটা নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে একটা চাঞ্চল্য ছড়ায়। আমি ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিই। কী উদ্দেশ্য নিয়ে একজন অপরিচিত যুবক লোকের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে সমীক্ষার নামে সেটা দেখুক পুলিশ।বহিরাগতের সঙ্গে কিছু ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশকে জানিয়েছি'। ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। এখনও যেটুকু জানা গিয়েছে, একটি সংস্থার হয়ে সমীক্ষা করতে এসেছে ওই যুবক। কিন্তু তাঁর এক্তিয়ার কতটা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিকে বাংলায় বিধানসভা ভোটে মুখে প্রকাশিত হয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সি ভোটার সমীক্ষার ফলাফল। সেই সমীক্ষা বলছে, যদি আজই বিধানসভা নির্বাচন হয়, তবে রাজ্যে ফের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তৃণমূলই। সামান্য হলেও অবশ্য বিজেপির জমি পুনরুদ্ধাদেরেও ইঙ্গিতও মিলেছে।
২০২৪ বনাম ২০২৬: আসনের সমীকরণ
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সবাইকে চমকে দিয়ে ৪২টি আসনের মধ্যে ২৯টিতে জয়লাভ করেছিল। অন্যদিকে, ২০১৯-এর তুলনায় ফল খারাপ করে বিজেপি মাত্র ১২টি আসনে থমকে গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক ২০২৬-এর সমীক্ষা বলছে:
তৃণমূল কংগ্রেস: বর্তমান সমীক্ষায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২৯ থেকে সামান্য কমে ২৮টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বিজেপি: বিজেপির আসন সংখ্যা ১২ থেকে কিছুটা বেড়ে ১৪টি হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের অগাস্টেও একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছিল। তাতে বিজেপির আসন সংখ্যা ১১-তে নেমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের সমীক্ষায় বিজেপির পালে কিছুটা হাওয়া লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আগস্টের সমীক্ষায় তৃণমূলের আসন ৩১ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়।