• বাসন্তী রাজ্য সড়ক আটকে নওশাদকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মিছিল শওকতের, ভোগান্তি
    এই সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, ভাঙড়: ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার মিছিল ও সভার জেরে রবিবার দুপুর থেকে সন্ধে পর্যন্ত হোঁচট খেল বাসন্তী রাজ্য সড়কের যান চলাচল। দুই ২৪ পরগনার ‘লাইফ লাইন’ এই রাজ্য সড়কে থমকে যায় যানবাহন,পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কলকাতা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ। মানুষের ভোগান্তির জন্য অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন শওকত। তিনি বলেন, ‘এত মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আসবেন, এত বড় মিছিল হবে, সেটা বুঝতে পারিনি। সাধারণ মানুষের যাতে তেমন অসুবিধে না হয়, সে জন্য ছুটির দিনে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল।’ যদিও এ ভাবে রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ করে মহামিছিলের বিরোধিতায় সরব এলাকার বাসিন্দাদের বড় অংশ।

    জানুয়ারি মাসে আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় শহিদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশ করেছিলেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। সে দিনই চ্যালেঞ্জের সুরে শওকত জানিয়েছিলেন, সমাবেশে গোটা রাজ্য থেকে নওশাদ যত মানুষকে এনেছেন, তার চেয়ে বেশি লোক নিয়ে ভাঙড় বিধানসভায় জনমিছিল করবেন তিনি। আইএসএফের ‘ভণ্ডামি’র প্রতিবাদ করে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরবেন। সেই মতো এ দিন বাসন্তী রাজ্য সড়কের পাগলাহাট থেকে ঘটকপুকুর পর্যন্ত মহামিছিল ও পরে সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    দুপুর একটা থেকে রাজ্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। নির্ধারিত সময় মেনে মিছিল শুরু হয় তিনটেয়। শওকতের পাশাপাশি সাংসদ সায়নী ঘোষও পা মেলান। পাঁচটা নাগাদ মিছিল ঘটকপুকুরে পৌঁছয় এবং শুরু হয় সভা। সায়নী ও শওকত দু’জনেই নওশাদের সমালোচনা করে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি তুলে ধরেন। পাগলাহাট থেকে ঘটকপুকুর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার জুড়ে মিছিল চললেও উত্তরে মালঞ্চ থেকে দক্ষিণে ভোজেরহাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ করে রাখে পুলিশ। মালঞ্চ এবং ভোজেরহাট দিয়ে কিছু গাড়ি অন্য পথে ডাইভার্ট করে দেওয়া হয়। কিন্তু যেগুলিকে ঘোরানো যায়নি, সেগুলি আটকে পড়ে। পণ্যবাহী গাড়ি, যাত্রিবাহী বাস থেকে অ্যাম্বুল্যান্স — কিছুই বাদ যায়নি। চূড়ান্ত নাকাল হন কয়েক হাজার মানুষ। এ জন্য শওকতকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ নেতা বলে কটাক্ষও করেছেন বিরোধীদের একাংশ

    চেষ্টা করেও নওশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে আইএসএফ নেতা রাইনূর হক বলেন, ‘এ ভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ঘটিয়ে এমন মিছিল করা কখনওই উচিত হয়নি। পুলিশ কোন যুক্তিতে এতটা সময় রাজ্য সড়ক বন্ধ করে মিছিলের অনুমতি দিল, সেটাও বুঝতে পারছি না।’ পুলিশ এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)