• অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনেই স্পিকার রিমুভাল বিতর্ক
    এই সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নিরপেক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করছেন না৷ শাসক শিবিরের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য দেখাচ্ছেন, পক্ষপাতিত্ব করছেন — রীতিমতো চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ তুলে স্পিকারের অপসারণ চেয়েছে বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল৷ লোকসভার স্পিকারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের তরফে ‘মোশন ফর রিমুভাল’ বা অপসারণ প্রস্তাবের নোটিসও জমা পড়েছে সংসদীয় সচিবালয়ে যেখানে সই করেছেন ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ৷

    এই প্রস্তাবে নীতিগত কারণে দূরত্ব রেখেছে তৃণমূল এবং আম আদমি পার্টি৷ এই পরিস্থিতিতে জল্পনা তৈরি হয়েছিল সরকারপক্ষের অবস্থান নিয়ে৷ মোশন ফর রিমুভাল সংক্রান্ত নোটিস সংসদে পেশ হওয়ার পরে ন্যূনতম ২০ দিন পরে তা নিয়ে ভোটাভুটি করা যেতে পারে, এটাই সংসদীয় নিয়ম৷ রবিবার সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং ভোটাভুটি করা হবে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনই অর্থাৎ ৯ মার্চ৷ এই প্রসঙ্গেই সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজিজু বলেন, ‘সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনের বিরতির পরে সভা শুরু হলে প্রথম দিনেই এই আলোচনা করতে হয়। ৯ মার্চ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আমরা লোকসভায় আলোচনা করব। পক্ষে-বিপক্ষে ভোট হবে৷’ ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায় চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে সংসদীয় সচিবালয়ে মোশন ফর রিমুভাল প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিস জমা পড়ার পর থেকেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নিজেকে সভা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন৷ তাঁর পরিবর্তে সভা পরিচালনা করছেন প্যানেল চেয়ারপার্সনরা৷ স্পিকারের মোশন ফর রিমুভাল নিয়ে যখন ৯ মার্চ লোকসভায় আলোচনা এবং ভোটাভুটি হবে সেই সময়েও একজন প্যানেল চেয়ারপার্সন গোটা বিষয়টি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন৷ এই প্রসঙ্গেই শূন্য থাকা ডেপুটি স্পিকার পদের গুরুত্ব তুলে ধরছেন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞরা৷

    তাঁদের মতে, সংসদীয় নিয়ম এবং প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে নিয়ে আসা ‘মোশন ফর রিমুভাল’ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং ভোটাভুটির কার্যসূচি পরিচালনার ভার ন্যস্ত হওয়া উচিত লোকসভার ডেপুটি স্পিকারের উপরেই৷ এই প্রসঙ্গে লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচার্য বলেন, ‘লোকসভার স্পিকার এই আলোচনা এবং ভোটাভুটির সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত রাখতে পারবেন না, কারণ তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ৷ এই ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বৈধতার সঙ্গে যিনি গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারতেন সেই ডেপুটি স্পিকার পদ শূন্য৷ এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়া উচিত সেই বিষয় নিয়ে সংসদের আইনে সুনির্দিষ্ট ভাবে কোনও কথা উল্লেখ করা নেই৷’ তাঁর সংযোজন, ‘ডেপুটি স্পিকার পদটি দেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ ধারা স্বীকৃত, যা বহাল থাকা বাধ্যতামূলক৷’

    ডেপুটি স্পিকার পদ ইস্যুতে মোদী সরকারকে নিশানা করেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের সচেতক মণিকম টেগোর৷ তাঁর কথায়, ‘সাত বছর ধরে লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার পদ শূন্য৷ এটা স্বাভাবিক নয়৷ এই অসাংবিধানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সরকার দেশের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্থানে আঘাত করেছে৷’ তিনি দাবি করেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধীদেরই প্রাপ্য৷ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভার কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্যই বিরোধীদের এই পদ দেওয়া হয়ে থাকে৷ এখন স্পিকারের মোশন ফর রিমুভাল নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গেই সরকারের দৃষ্টিকটু অবস্থান আরও একবার সামনে আসছে৷

  • Link to this news (এই সময়)