• ছেলে হবু চিকিৎসক, মা দাঁড়িয়ে বেকার ভাতার লাইনে
    এই সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার 

    ছেলে হবু চিকিৎসক (Doctor)। ইতিমধ্যেই দন্ত চিকিৎসার (Dentist) চার বছরের পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছেন একটি মেডিক্যাল কলেজে। তারপরেও সেই ছেলের জন্য বেকার ভাতার ফর্ম নিতে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেল মাকে। রবিবার কোচবিহার রবীন্দ্র ভবনে এই দৃশ্য দেখা যায়। ফর্ম তোলা নিয়ে ওই মহিলা বলেন, ‘ছেলে পড়াশোনা তো প্রায় শেষ করেছে। কিন্তু চাকরি পাবে কি না তার কোনও গ্যারান্টি নেই। এই সরকারি টাকা পেলে কিছুটা সুবিধা হয়। সেই কারণেই ফর্ম নিতে এসেছি।’

    বাজেটে অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালুর কথা থাকলেও সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিনকয়েক আগে যুবসাথী (Yuvasathi) প্রকল্পের টাকা এপ্রিল থেকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এ দিন তার ফর্ম বিলি শুরু হয়। মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক–যুবতীরা এই প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। কিন্তু রবিবার বাস্তবে দেখা গেল, বিএসসি এগ্রিকালচার, অ্যাকাউন্টেন্সিতে মাস্টার্স করা যুবকরাও লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে যান কোচবিহার শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভাস্বতী দে। তাঁর ছেলে শুভ্রনীল দে হলদিয়ার বিসি রায় মেডিক্যাল কলেজ (Bc Roy Medical College) থেকে ডেন্টাল কোর্স সমাপ্ত করেছেন। এখন সেখানে ইন্টার্ন হিসাবে কাজ করছেন। তাঁর মা ছেলের আধার কার্ড নিয়ে কোচবিহার রবীন্দ্র ভবনে সকাল সকাল চলে আসেন।

    তিনি খোলাখুলিই জানান, ছেলের জন্য ফর্ম তুলতে এসেছেন। ছেলের বিডিএস–এর পড়াশোনা শেষ হয়েছে। সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তবু কী কারণে মাত্র দেড় হাজার টাকা বেকার ভাতা নেওয়ার জন্য মা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এই প্রশ্নের উত্তরে ভাস্বতী বলেন, ‘আমরা জেনারেল ক্যাটেগরির। ছেলে পড়াশোনা তো শেষ করেছে, চাকরি যে পাবেই তার কোনও গ্যারান্টি নেই। কারণ জেনারেলের কোটা অনেক কম। তাই আগামী দিনের ছেলের আরও পড়াশোনা করতে কিংবা যাতায়াত খরচ, বিভিন্ন রকম ফর্ম ফিলাপ করতে টাকার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি প্রকল্প (Goverment scheme) থেকে যদি এই সুবিধা কিছুটা হলেও পাওয়া যায়, তার জন্যই আবেদন করছি।’

    শহরের ২০ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোমতীর্থ বর্মন অ্যাকাউন্টান্সিতে মাস্টার্স করেছেন। আবার সুতীর্থ দত্ত নামে এক যুবক দেরাদুন থেকে বিএসসি এগ্রিকালচারে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তবে কারওই এখনও সরকারি চাকরি জোটেনি। তাঁরা এ দিন ফর্ম তোলার লাইনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এখন যা অবস্থা তাতে ১০ হাজার টাকাতেও সমস্যা মিটবে না। তবে মাসে ১৫০০ টাকা করে যদি সরকার দেয়, তা হলে অনেক কাজই করা যাবে। মোবাইল রিচার্জ থেকে শুরু করে পরীক্ষার (EXAM) ফর্ম ফিলআপ, এগুলির জন্য বাড়ির লোকের কাছে হাত পাততে হবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)