• মেয়েকে দেহ ব্যবসায় নামাতে মায়ের ষড়যন্ত্রেই স্কুটিতে অস্ত্র, নিয়েছিলেন অগ্রিম টাকাও
    এই সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: শনিবার 'ভ্যালেন্টাইন্স ডে'-তে বর্ধমানের (Bardhaman Town) গোলাপবাগ মোড়ে বিয়ের রেজিস্ট্রিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন এক যুবক এবং তাঁর প্রেমিকা (উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী)। পুলিশ সেই যুবকের স্কুটির ব্যাগে তল্লাশি করে পেয়েছিল একটি ছ'ঘরার রিভলভার। পরে পুলিশ ওই যুবক এবং তাঁর প্রেমিকাকে ছেড়ে দিলেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে মেয়েকে দেহ ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিলেন ওই মেয়েটির মা! এমনকী, পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার মন্দারমণি এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে এ বার দোল উৎসবের সময়ে মেয়েকে পাঠানোর জন্য 'বোলি' দেওয়া হয়েছিল পাঁচ লক্ষ টাকায়। কিন্তু মেয়েটি রাজি হয়নি। প্রেমিকের সঙ্গে নিজের মতো সংসার বাঁধতে চেয়েছিল। সেই কারণেই দাদুকে নিয়ে শনিবার মেয়েটি গিয়েছিল গোলাপবাগ মোড়ে বিবাহ রেজিস্ট্রি অফিসে ফর্ম ফিল আপ করতে।

    কোনও ভাবেই মেয়েকে আটকাতে না–পেরে শেষে মা তাঁর মামাতো দাদা শ্রীকান্ত দাস এবং প্রেমিক জুয়েল আহমেদকে এই কাজে লাগান। শ্রীকান্ত স্কুটির ডিকির নকল চাবি তৈরি করে। পরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বাসিন্দা জুয়েল ওরফে মহম্মদ নজরুল খানের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে স্কুটিতে রেখে দেয়। পরে তারাই ফোন করে পুলিশকে জানায়, যুবকটি স্কুটির ব্যাগে রিভলভার নিয়ে ঘুরছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার স্কুটির সঙ্গে ওই যুবক এবং তাঁর প্রেমিকাকে আটক করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে উঠে আসে আসল কাহিনি। শনিবার রাতেই বেআইনি অস্ত্র কারবারের জন্য জড়িত থাকার অভিযোগে শাঁখারিপুকুর এলাকা থেকে শ্রীকান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলে পুলিশ। তাকে দু'দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। জুয়েল ওরফে নজরুলের বিরুদ্ধে ২০২৪–এ বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকার একটি হোটেলে পায়েল খান নামে এক মহিলাকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ শ্রীকান্তকে হেফাতজে নিয়ে জুয়েলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

  • Link to this news (এই সময়)