নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিমানবন্দর থেকে কলকাতাগামী রাস্তার নীচে চলছে ‘বক্স-পুশিং’ পদ্ধতিতে মেট্রোর টানেল তৈরির কাজ। চলবে প্রায় ৯ মাস। এই কাজ চলাকালীন উপরের রাস্তায় যানবাহন চলা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রয়োজন বিকল্প রাস্তা অথবা ট্রাফিক ডাইভারশন। কিন্তু, আড়াই নম্বর দিয়ে ট্রাফিক ডাইভারশনের অনুমতি দেয়নি বিধাননগর পুলিশ। বদলে বিকল্প রাস্তার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পুলিশের দাবি, আড়াই নম্বর দিয়ে ট্রাফিক ডাইভারশন হলে এক-একটি গাড়িকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরতে হবে। তাছাড়া, আড়াই নম্বর দিয়ে ব্যস্ত সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৭০০ গাড়ি চলাচল করে। বিমানবন্দরের বাড়তি গাড়িকে এই পথে ঘোরালে গাড়ির চাপ বেড়ে ঘণ্টায় হবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। যা রাস্তার ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি। স্বাভাবিকভাবেই স্তব্ধ হয়ে যাবে গোটা ট্রাফিক ব্যবস্থা। তাই প্রয়োজন বিকল্প রাস্তা।
পুলিশ ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানবন্দর ফ্লাইওভারের নীচে মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের শেষ অংশের জন্য দীর্ঘতম ‘বক্স-পুশিং টানেল’-এর কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো করিডরের শেষ ৯০০ মিটার অংশ মাটির নীচ দিয়ে করা হচ্ছে। শেষ ১৩৫ মিটার অংশ নির্মাণ বক্স-পুশিং পদ্ধতিতে করা হবে। এই পদ্ধতিতে তিনটি কোচের সমান আকারের বক্স মাটির ভিতর ঠেলে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়। পুলিশের দাবি, এই কাজের সময় ধস নামতে পারে। উপরে গাড়ি চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দর থেকে যে কলকাতামুখী রাস্তা ভিআইপি রোডে মিশেছে, সেই অংশ বন্ধ রাখতে হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আরভিএনএল একটি সমীক্ষা করে। তারপর ট্রাফিক ডাইভারশনের রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেয়। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। তাদের দাবি, বিমানবন্দর থেকে কলকাতামুখী গাড়িগুলি ভিআইপি রোডের আগে ইউ টার্ন করে ফের বিমানবন্দরের ভিতরে প্রবেশ করানোর কথা বলা হয়েছে। তারপর মন্দির ক্রসিং পার করে আড়াই নম্বর দিয়ে গাড়িগুলি ঘুরিয়ে ১ নম্বর গেট হয়ে ভিআইপি রোডে তুলতে হবে। এতে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি গাড়িকে ১.৩ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হবে। ফলে যানজট মোকাবিলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। পরে প্রস্তাব দেওয়া হয়, বারাসত ও বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কলকাতামুখী গাড়িগুলিকে আড়াই নম্বর কাট আউট দিয়ে এয়ারপোর্টের ভিতরে না ঢুকতে না দেওয়া হোক। তাহলে আড়াই নম্বরের চাপ কমবে। পুলিশের দাবি, ওই গাড়ি সোজা যশোর রোড ধরে ১ নম্বরে গিয়ে ভিআইপিতে মিশলে চরম যানজট হবে। কারণ, ১ নম্বর গেটের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে গাড়ি বেশি হয়ে যাবে।
এই অবস্থায় বিধাননগর পুলিশ ডাইভারশন না করে বিকল্প একটি রাস্তার কথা জানিয়েছে। তা কার্যকর হলে কোনো গাড়িকে ঘুরতে হবে না। সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে বিষয়টি। মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এসএস কারনান বলেন, ‘এয়ারপোর্টে মেট্রোর কাজ চলছে। পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোনোরকম সংঘাত বা সমস্যা নেই। ট্রাফিক ডাইভারশনের খবর হয়তো থানা স্তরে আলোচনা হচ্ছে। সেই খবর আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি।’