পুর বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ ছাঁটাই, স্কুল ও পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে ব্যাপক হারে
বর্তমান | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী অর্থবর্ষের (২০২৬-’২৭) বাজেট পেশ করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের আগে পুরবোর্ডের এটাই শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। শিক্ষাকে যে এই পুর বোর্ড গুরুত্বের মধ্যেই রাখছে না, তা এই বাজেট প্রস্তাবেই স্পষ্ট।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের অন্ত নেই। কলকাতা পুরসভার তথ্য বলছে, বর্তমান বোর্ডের সময়কালে পুর শিক্ষা ব্যবস্থার হালও বেহাল হয়েছে। চলতি আর্থিক বছরে শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৯ কোটি ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছিল। যদিও ওই পরিমান টাকা করচই করতে পারেনি বর্তমান বোর্ড। বরাদ্দ হওয়া টাকার মধ্যে তারা খরচ করতে পেরেছে ৪৪ কোটি ৬৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। মেয়রের আগামী অর্থবর্ষের (২০২৬-’২৭) বাজেট বিবৃতিতে অন্যান্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও একমাত্র শিক্ষাখাতে সেই বরাদ্দ সামান্য হলেও কমেছে। গতবারের তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ কমেছে ৩৬ লক্ষ টাকা।
পুরসভা সূত্রে খবর, বরাদ্দ যেমন কমেছে, তেমনই শিক্ষা বিভাগের কাজে সার্বিকভাবে নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমান পুরবোর্ডের শুরুর দিকে প্রাইমারি স্কুল ছিল ২৬৩টি। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দাঁড়িয়েছে ২১৭টি। শুধু স্কুল নয়, ছাত্র সংখ্যাও কমেছে চলতি বোর্ডের সময়কালে। ২৬,৯৭১ জন ছাত্রছাত্রী থেকে এক ধাক্কায় কমে হয়েছে ১৩ হাজার।
এই পরিসংখ্যানই শহরের প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কারণ, এইসব স্কুলে মূলত গরিব এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। পুরসভার শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহার যুক্তি, আগে একজন ছাত্রের নাম অনেক স্কুলে থাকত। এখন একজন ছাত্র একটি স্কুলে ভরতি হলে অন্যত্র আর নাম লেখাতে পারে না। বাংলা শিক্ষা পোর্টালে একজন ছাত্রের নাম একটি স্কুলেই নথিভুক্ত হয়। তাই পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে। তাছাড়া, আমাদের প্রি-প্রাইমারি চলে। সেটা বাংলা শিক্ষা পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন হয় না। অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। স্মার্ট ক্লাস তৈরি হয়েছে। শিক্ষক পেলে আরও সুবিধা হবে।