পুরশুড়া ও খানাকুলের পদ্ম বিধায়কদের বিরুদ্ধে পোস্টার
বর্তমান | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: পুরশুড়া ও খানাকুলের বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে সাঁটানো পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য। রবিবার সকালে পুরশুড়া ও খানাকুলের বিভিন্ন জায়গায় ওই পোস্টারগুলি দেখতে পান স্থানীয়রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পোস্টার, ব্যানারের প্রতিবাদে এদিনই বিজেপি কর্মীরা সংশ্লিষ্ট থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এমনকী, পোস্টার যে বা যাঁরা সাঁটিয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থার দাবিতেও পদ্ম বিধায়করা সরব হন। থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
পুরশুড়া ও খানাকুলের বিধায়কদের বিরুদ্ধে কারা এসব পোস্টার সাঁটাল তার কোনো উল্লেখ নেই। দুই বিধায়ককেই কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে পোস্টারের ভাষা। তার জেরে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। শাসকদল অবশ্য গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনায় দু’দলের মধ্যে শুরু হয়েছে তরজা।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন ধরেই আরামবাগ মহকুমায় পোস্টার ঘিরে হইচই পড়েছে। সম্প্রতি আরামবাগ সংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি পলাশ রায়ের বিরুদ্ধে খানাকুলের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার পড়ে। এছাড়া আরামবাগ ও গোঘাটের বিধায়কদের নিখোঁজ ঘোষণা করে মিছিল হয়। এবার পুরশুড়া ও খানাকুলের বিধায়কদের বিরুদ্ধেও পোস্টার পড়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুরশুড়ার পদ্ম বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, রাতের অন্ধকারে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ব্যানার লাগানো হয়েছে। ব্যানার যাঁরা লাগিয়েছে তাদের ছবি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে। পুলিশ অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন হবে। তৃণমূলের পলাশ রায়ের মদতেই এই পোস্টার দেওয়া হয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। কিন্তু তাতে লাভ হবে না। খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষও বলেন, তৃণমূল নেতা স্বপন নন্দী, পলাশ রায়ের মদতে পোস্টার, ব্যানারগুলি লাগানো হয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। মিথ্যে তথ্য ও ছবি বিকৃত করা হচ্ছে।
পাল্টা তৃণমূলের স্বপন নন্দী, পলাশ রায়রা বলেন, পোস্টার দেওয়া তৃণমূলের সংস্কৃতি নয়। বিজেপির মধ্যে ব্যাপক গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। বিধায়কদের নানা কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই কর্মীরা রুষ্ট হচ্ছেন। তাই বিধায়কদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে বিক্ষুব্ধরা পোস্টার সেঁটে দিচ্ছেন। এখন আমাদের সরকারের উন্নয়নকে হারাতে না পেরে বিজেপি ভিত্তিহীন সব অভিযোগ তুলছে।