• ছৌ-এর আলোয় হারিয়েছে গৌরব, ঐতিহ্যবাহী নাটুয়া ফিরিয়ে আনতে চায় মানভূম
    এই সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

    বহু শতাব্দী ধরে পুরুলিয়া জেলা তথা অতীতের মানভূমের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টি। তার সূত্র ধরেই ছৌ নাচ এখন জগত বিখ্যাত। কিন্তু কোথায় হারাল জেলার আর এক ঐতিহ্যশালী নৃত্য নাটুয়া? আগে গ্রামে নাটুয়া নাচ দেখতে ভিড় জমাতেন মানুষ। কবে যেন সেই জায়গা থেকে সরে এসেছেন তাঁরা। গ্রামের মেলা মানেই সেখানে আকর্ষণের সব আলো শুষে নেয় ছৌ। তার উপরে প্রবাদপ্রতিম নাটুয়া শিল্পী, পুরুলিয়ার বলরামপুরের পাড়দ্দা গ্রামের হাঁড়িরাম কালিন্দীর প্রয়াণের পরে নাটুয়া নাচও যেন গতি হারায়।

    সুবিশাল ঢাক নিয়ে হাঁড়িরামের নৃত্যের মাধ্যমে নানা কসরত খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। নাটুয়াতে তিনি জাদুর খেলাও যুক্ত করেছিলেন। তবে আবার নতুন ভাবে নাটুয়া নৃত্যকে পুরোনো জায়গায় ফেরাতে নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। রাজ্যের সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে জায়গা পাচ্ছে নাটুয়া। নাচের। এই নৃত্য নিয়ে হচ্ছে কর্মশালা। নতুন শিল্পীরা প্রশিক্ষণও পাচ্ছেন।

    পুরুলিয়ার লোক গবেষক নিমাই কৃষ্ণ মাহাতো বলছেন, 'ছৌ নৃত্যের উৎপত্তি মূলত নাটুয়া থেকেই। এই নাম এসেছে নটরাজের নাম থেকে। নৃত্যের দেবতা নটরাজ বা আদিদেব। তাঁর সঙ্গীদের ধরনে নাটুয়া শিল্পীরা এই নাচ করে থাকেন। তখন অরণ্যে পশু শিকার ছিল। বন্যপ্রাণীদের ধরন নিয়ে এই নাচ। শিব আদি দেবতা। তাঁর অনুচরদের ধরনে অঙ্গভঙ্গি করে শিল্পীরা আনন্দ প্রকাশ করতেন। বাস্তবে এটিই ছৌ নাচের আদি রূপ।'

    নাটুয়া নৃত্যে ফুটে ওঠে বীর রস। অসম্ভব শারীরিক কসরতের প্রয়োজন এই নাচের জন্য। মুখোশ ব্যবহার হয় না। অতীতে সারা জেলা জুড়ে নাটুয়া নাচ প্রচলিত ছিল। এখন হাতে গোনা কিছু শিল্পী সেই ধারা বহন করছেন। তবে পরিস্থিতি আগের থেকে কিছুটা ভালো বলে মনে করছেন নাটুয়া শিল্পীরা। পুরুলিয়ার কেন্দার কনাপাড়া গ্রামের নাটুয়া শিল্পী গুণধর সহিস পরিবারের ন'পুরুষ এই নাচের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলছেন, 'এখন আবার এই নাচ নিয়ে উৎসাহ দেখছি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে। উজ্জ্বল পোশাক। নতুন ধরনের কসরত মন কাড়ছে মানুষের।'

    এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন গুণধর। তিনি বলেন, 'নাটুয়া শিল্পীরা রাজ্য সরকারের শিল্পী ভাতা পান। সরকারি অনুষ্ঠানে কাজও পান। বেশ কয়েক বার কর্মশালা হয়েছে। সম্প্রতি তিন দিন ধরে এই নৃত্য নিয়ে হয়েছে কর্মশালা। ফলে একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।' পুরুলিয়ার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক সায়ন ঘোষের মন্তব্য, 'লোকপ্রসার প্রকল্পের পরে পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। নতুনদের এই নৃত্যের দিকে নিয়ে আসতে হচ্ছে কর্মশালা। আগামী দিনে নাটুয়া হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।'

  • Link to this news (এই সময়)