• এবার সেলিমদের কড়া বার্তা ফরওয়ার্ড ব্লকের, ISF, হুমায়ুনদের নিয়ে যেভাবে 'ঘোঁট' পাকছে আলিমুদ্দিনে
    আজ তক | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ২০২১ সালে 'ভাইজানে' মজেছিল CPIM! ISF-এর আব্বাস সিদ্দিকিকে ঘিরে ব্রিগেডের জনসভায় মঞ্চে তত্‍কালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর ক্ষোভ দেখেছিল গোটা রাজ্য। মহম্মদ সেলিমদের 'ভাইজান' প্রীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে ফাটলটা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছিল ওই দিনই। এবার অবশ্য বাংলায় আলাদা লড়ছে কংগ্রেস। এবারে বেঁকে বসল ফরওয়ার্ড ব্লক। একেবারে বামফ্রন্টের শরিক দলে গোঁসা ISF-কে নিয়ে। 

    সিপিএমের নয়া মাথাব্যথা ফরওয়ার্ড ব্লক

    বামফ্রন্টের 'বড়দা' সিপিএম পড়েছে মহা মুশকিলে। একদিকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে পাঁচতারা হোটেলে মিটিং করে ঘরে বাইরে সমালোচনার মুখে মহম্মদ সেলিম। এবার নয়া মাথাব্যথা ফরওয়ার্ড ব্লক। গতবারও ISF-এর সঙ্গে জোটের বিরোধী ছিল নেতাজির তৈরি এই বামপন্থী দল। এবারও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফরোয়ার্ড ব্লকের রাজ্য কমিটি ও রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলী, দুই মিটিংয়েই স্থির করা হয়েছে, আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে না ফরোয়ার্ড ব্লক। 

    ISF-কে জোটে নিতে রাজি নয় ফরওয়ার্ড ব্লক

    ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আইএসএফ-কে তাঁরা সমর্থন করবেন না। এমনকী যদি জোট হয়, তাহলেও জোট মনোনীত কোনও আইএসএফ প্রার্থীকে ফরওয়ার্ড ব্লক ভোট দেবে না। তবে তাঁরা বামফ্রন্টে থেকেই লড়বে।  এখন সিপিএম কী করবে? ২০২১ সালেও তো ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি চায়নি, নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ সঙ্গে জোট হোক। কংগ্রেসও বিরোধী ছিল। তা সত্ত্বেও সিপিএম জোট বেঁধেছিল। তারপর দেখা গেল, ওই জোটে একমাত্র বিধায়ক হলেন নওশাদ সিদ্দিকি। বাকি সব শূন্য। এখন বামেদের একটাই টার্গেট, শূন্যের গেরো কাটানো। বিধানসভা কক্ষে অন্তত প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য। ফরওয়ার্ড ব্লকের বৈঠক সূত্রের খবর, তারা চাইছে ৩২টি আসনে প্রার্থী দিতে। এখন ফরওয়ার্ড ব্লক যদি ৩২টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং আইএসএফ-কে সমর্থন না করে, তাহলে ব্যথা বাড়বে সিপিএম-এর।

    আরএসপি ও সিপিআই গতবারের চেয়ে বেশি আসন চাইছে

    বামফ্রন্টের আরেক শরিক আরএসপি আবার অন্য পন্থা নিয়েছে। সূত্রের খবর, বামফ্রন্টের বৃহত্তর স্বার্থে তারা আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা মেনে নিতে পারে। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে যেহেতু জোট হচ্ছে না, তাই ১৯টি আসন চাইতে পারে। সিপিআই-ও ২০২১ সালের চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে। 

    সংখ্যালঘু ভোটে আদৌ শূন্যের গেরো কাটবে বামেদের?

    হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে বামফ্রন্টের জোট হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু আইএসএফ-কে গতবারের মতোই জোটে পেতে আগ্রহী সিপিএম। যদি হুমায়ুনের জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে কোনও ভাবে জোট হয়ে যায়, আবার আইএসএফ-এর সঙ্গেও জোট হয়, তাহলে গতবারের মতো যদি এই দুই দল থেকে কেউ বা কারা বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে গেলে, বামেদের হাতে থাকবে পেনসিল! যে সংখ্যালঘু ভোটকে আসলে সেলিম টার্গেট করছেন, তা আদৌ বামফ্রন্ট বা সিপিএম-এর দিকে যাবে তো? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। কারণ, যতই নিজেদের সেক্যুলার দাবি করুক, দিনের শেষে হুমায়ুন ও নওশাদের দল কিন্তু সংখ্যালঘু ভিত্তিক।  
  • Link to this news (আজ তক)