নবম, দশমের তথ্য যাচাই শুরু হওয়ার কথা ছিল ২৬ ডিসেম্বর থেকে। তার পরে প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও তা শুরুই হয়নি। কবে শুরু হবে, তাও এখনও স্কুল সার্ভিস কমিশন জানায়নি। ফলে তথ্য যাচাই পর্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন নবম, দশমের চাকরিপ্রার্থীরা। একই রকম দুশ্চিন্তায় একাদশ, দ্বাদশের চাকরিপ্রার্থীরাও। তাঁদের ইন্টারভিউ হয়ে গিয়ে মেধা তালিকা বেরোলেও কবে কাউন্সেলিং হয়ে চাকরির সুপারিশপত্র দেওয়া হবে তা জানায়নি এসএসসি।
এসএসসি সূত্রে খবর, সুপারিশপত্র হয়তো এ মাসেই দেওয়া হবে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ থেকে ওই চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ পত্র পাবেন কি না সেই নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় পর্ষদ ডিসেম্বরেই এসএসসি-র নবম, দশম এবং একাদশ, দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূচি জানিয়ে ছিল। সেই সূচি অনুযায়ী নবম, দশমের ইন্টারভিউয়ের জন্য তথ্য যাচাই শুরু হওয়ার তারিখ ছিল ২৬ ডিসেম্বর। মেধা তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ২৪ মার্চ। এবং ৩০ মার্চ থেকে কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। নবম, দশমের চাকরিপ্রার্থীরা জানাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী কোনও তারিখই মিলছে না। নবম দশমের এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘‘একাদশ, দ্বাদশের ২০ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থীর তথ্য যাচাই হয়ে ইন্টারভিউ হতে প্রায় দু’মাস লেগেছিল। আমাদের নবম, দশমের প্রায় ৪০ হাজারের মতো প্রার্থী রয়েছেন। তা হলে, এত জনের তথ্য যাচাই হয়ে ইন্টারভিউ মিটতে তো চার মাস লেগে যাবে! সত্যিই কি ২৪ মার্চের মধ্যে মেধা তালিকা বেরোবে? কবেই বা সুপারিশ পত্র মিলবে? পর্ষদ অবশ্য হলফনামায় জানিয়েছে, নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩১ অগস্টের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু সেটাও বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
একাদশ, দ্বাদশের প্রার্থীরা জানাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি থেকে তাঁদের কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর এক মাস বাদেএ কাউন্সেলিং শুরু হল না। একাদশ, দ্বাদশের এক প্রার্থী বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে নিয়োগপত্র পাব। তা হবে বলে মনে হচ্ছে না।’’
বিধানসভা ভোটের আগে একাদশ, দ্বাদশের প্রার্থীদের নিয়োগপত্র পাওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। কারণ এসএসসি তাদের সুপারিশপত্র দেওয়ার পরে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ সমস্ত নথি যাচাই করবে, তার পরে মেডিক্যাল ও পুলিশের যাচাই পর্ব (ভেরিফিকেশন) মিটলে নিয়োগপত্র আসবে। পুরো প্রক্রিয়ায় কম পক্ষে দুই থেকে চার মাস লাগবে। প্রশ্ন, চলতি সপ্তাহেই একাদশ, দ্বাদশের কাউন্সেলিং শুরু হলেও নিয়োগপত্র কি এপ্রিলের শেষের আগে পাওয়া যাবে?
এসএসসি-র অবশ্য দাবি, তারা নির্ধারিত সূচি ধরে এগোলেও তথ্য যাচাই করার পরে কিছু দাগি প্রার্থী বেরিয়েছেন। তাঁদের বাদ দিতে হয়েছে। আদালতের নির্দেশে একাদশ, দ্বাদশের কিছু প্রার্থীর ইন্টারভিউ আবার নতুন করে নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে বার বার বাধা পাওয়ায় প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরে হয়েছে। এসএসসি জানিয়েছে, শিক্ষাকর্মীদের পরীক্ষা সামনেই ১ এবং ৮ মার্চ । তার আগে ফের ৫৪৪ জন আবেদনকারী দাগি বেরিয়েছেন। তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। যাঁরা দাগি বেরিয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকাও প্রকাশ করেছে এসএসসি।