অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: ফের কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন। ভিডিয়ো কনফারেন্সে ফুল বেঞ্চ বৈঠকে যেরকম ভাবে নিজেদের করা অবস্থান কমিশন জানিয়েছিল ঠিক তাই বাস্তবায়িত হল। গুরুতর অনিয়ম, দায়িত্বে গাফিলতি এবং আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে রাজ্যের একাধিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)-কে রবিবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। ৭জন AERO-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, SIR চলাকালীন এই অনিয়ম ধরা পড়েছে তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে।
কমিশনের তরফে জারি করা নির্দেশিকা দেখা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের ৫৭ নম্বর সুতির AERO শেখ মুরশিদ আলম, ৫৬ নম্বর সামসেরগঞ্জের AERO ডা. সেফাউর রহমান এবং ৫৫ নম্বর ফারাক্কার রাজস্ব আধিকারিক নীতিশ দাসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ির ১৬ নম্বর ময়নাগুড়ি কেন্দ্রের AERO দালিয়া রায় চৌধুরীও একই অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩৯ নম্বর ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের দুই AERO—সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডু, ডেবড়া কেন্দ্রের AERO দেবাশিস বিশ্বাসকেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে জানাতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগারওয়াল।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক না ওঠে, সে কারণেই কমিশন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে-নির্বাচনী কাজে অনিয়ম ধরা পড়লে রেয়াত মিলবে না।
চিঠিতে বলা আছে Supreme Court of India-এর নির্দেশ মেনে SIR সংক্রান্ত সব আপত্তি (Form 7) দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কিছু একটা অভিযোগ ছিল ওই নথি পোড়ানোর বিষয়টি নজরে আসার পর কমিশন নির্দেশ দিয়েছে- CEO ও DEO দফতরে জমা পড়া সমস্ত আপত্তি অবিলম্বে ERO/AERO-দের কাছে পাঠাতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।