অবিকল দেব-দেবীর সাজ! নকল হাত-সহ দেব-দেবীর সাজে কখনও রাস্তার মোড়ে, আবার কখনও শহরের ব্যস্ত সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত তাদের। আপাতদৃষ্টিতে বহুরূপী বলে মনে হলেও আদতে সেই ছদ্মবেশের আড়ালেই চলত অপরাধের ছক কষা। সাধারণ মানুষকে দাঁড় করিয়ে কথা বলার অছিলায় নিমেষে কখনও তাঁদের মানিব্যাগ, কখনও মোবাইল হাতিয়ে নেওয়া হত। তদন্তে নেমে এমনই একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে লালবাজার। শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে সেই চক্রের চার জনকে। ধৃতদের রবিবার কলকাতার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম অনিল রামজু সালাত, ধীরু কালোভাই সালাত, সমীরভাই সালাত এবং রাজু কুমার। প্রত্যেকে গুজরাতের আনন্দ জেলার বাসিন্দা। কয়েক মাস ধরেই তারা হেস্টিংস এলাকায় থাকছিল। শনিবার সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে তাদের সাজপোশাকের বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। কত দিন ধরে এই চক্র চলছিল, তা ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
দিন কয়েক আগে গিরিশ পার্ক থানায় দায়ের হওয়া একটি মোবাইল চুরির মামলায় পার্ক স্ট্রিট এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল লালবাজার। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই চক্রের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এর পরে শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় নজরদারি চলছিল। সেই সূত্রেই জোড়াসাঁকো থানার একটি চুরির মামলায় চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে লালবাজার জানিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, দেব-দেবী সেজে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এই চুরির কারবার চালাত ধৃতেরা। পথচারীকে দাঁড় করিয়ে কথা বলার অছিলায় তাঁর ব্যাগ থেকে কখনও মোবাইল, কখনও মানিব্যাগ-সহ দামী সামগ্রী হাতিয়ে নিত অভিযুক্তেরা। ধৃতদের পাশাপাশি আরও কয়েক জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে লালবাজার জানিয়েছে।