• উত্তর থেকে দক্ষিণ, খোঁড়া রাস্তার জেরে দুর্বিষহ যাত্রা
    আনন্দবাজার | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৫০ ফুট চওড়া রাস্তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ ফুটে। সেই পথেই উভয় দিকে যান চলাচল করানো হচ্ছে। অবস্থা এমন যে, গার্তের গা-ঘেঁষে বাসের চাকা যাচ্ছে। বাসকে পাশ কাটাতে গিয়ে অটোর চাকা পড়ছে সেই গর্তেই। কখনও আবার এমনই গর্তে চাকা পড়ায় টাল সামলাতে না পেরে মোটরবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন কিছু ঘটে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যান চলাচল।

    উপরের এই চিত্র বেলেঘাটা মেন রোডের। তবে অভিযোগ, শহরের অন্যত্রও এখন দেখা যাচ্ছে এমন ছবি। বেশির ভাগ জায়গায় চোখে পড়ছে খোঁড়াখুঁড়ির চিত্র। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নাগরিকদের একাংশ বলছেন, ‘‘ভোট এলেই শুধু রাস্তা সংস্কারের কথা মনে পড়ে। যে বছর ভোট থাকে না, সে বছর রাস্তা ধসে গেলেও তাপ্পি দেওয়া হয় মাত্র। এ বছর নির্বাচন আছে বলে খোলনলচে বদলে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এতে তো আখেরে ভুগতে হচ্ছে সেই সাধারণ মানুষকেই।’’ অভিযোগ, যে পথ যেতে বাসে ৩০ মিনিট লাগে, খোঁড়া থাকার জেরে সেই পথ পেরোতেই লাগছে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

    অনেক সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাসপাতাল-যাত্রার অভিজ্ঞতাও হচ্ছে অনেকের। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে পুলিশের সাহায্য পাওয়ার জন্যও ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। যেখানে যেখানে কাজ হচ্ছে, সেখানে শুধু পুরসভা বা কেএমডিএ-র ‘কাজ চলছে’ লেখা স্টিকার লাগিয়েই দায়িত্ব সেরে ফেলা হচ্ছে। আরও অভিযোগ, কোনও পুলিশকর্মীকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যাচ্ছে না। যান নিয়ন্ত্রণ করতে ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদেরও দেখা যাচ্ছে না। যদিও কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পথে পুলিশের উপস্থিতির উপরে জোর দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার অফিসারদের তরফেও অভিযোগ আসছে। তাঁদের এক জন বললেন, ‘‘পুলিশ তো শুধু রাস্তা বন্ধ করা হচ্ছে বলেই খালাস। অনেক জায়গায় কাজ শেষ করার আগেই গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। উভয় দিকে যান চলাচল করানো যাবে না বলে সাহায্য চেয়ে অনুরোধ করেও কাজ হচ্ছে না।’’

    পুরসভা সূত্রের খবর, চলতি বছরের শুরুতেই শহরের প্রায় ১১২টি রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে কাজ চলছে পামারবাজার থেকে পটারি রোড, বেলেঘাটা মেন রোড, ক্যানাল সাউথ রোড, বনমালী ব্যানার্জি রোড, ক্যানাল ওয়েস্ট রোড, রাজা রামমোহন রায় রোড, গোপাল মিশ্র রোড, রায়বাহাদুর রোডে। কাজ হচ্ছে মেটিয়াবুরুজ থানা থেকে রাজাবাগান থানা পর্যন্ত রাস্তা, গার্ডেনরিচ রোডের একাংশ, জেমস লং সরণি, ইএম বাইপাস থেকে মুকুন্দ ভবন, মুকুন্দপুর মেন রোড, মহাত্মা গান্ধী রোড, সিরিটি থেকে করুণাময়ী মোড়, আনন্দপুর রোড, দুর্গাপুর সেতু থেকে আলিপুর মোড়ের দিকে যাওয়ার রাস্তাতেও। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড হয়ে টালিগঞ্জ মোড় পর্যন্ত যাওয়ার পথেও বিশেষ কাজ চলছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। এ ছাড়াও একাধিক রাস্তা খোঁড়া রয়েছে পানীয় জলের পাইপলাইনের কাজের জন্য। এই কাজ শেষ হতে এক থেকে দেড় মাস লেগে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।

    পুরসভার মেয়র পারিষদ (রাস্তা) অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জল জমার সমস্যা-সহ বেশ কয়েকটি দিক মাথায় রেখে বড় মাপে রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাস্তা মসৃণ করার উপরেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যান নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকেই আরও সক্রিয় হতে হবে।’’ তাঁর আরও দাবি, পুলিশ যে ভাবে বলছে, সে ভাবেই তাঁরা কাজ করছেন। যদিও কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘যে সংস্থা কাজ করছে, তাদের অনুরোধ মেনেই যান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কলকাতার রাস্তা এমনিতেই সঙ্কীর্ণ। ভোটের আগে সমস্তটা করতে গিয়েই সমস্যা হচ্ছে।’’ সমস্যার কথা মানলেও সুরাহার পথ আপাতত দেখাতে পারছে না কোনও পক্ষই।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)