কেরালার বিখ্যাত শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে ফের একবার পারদ চড়তে চলেছে। শুরু হতে চলেছে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং লিঙ্গসাম্যের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিতর্কের আইনি পর্যালোচনার পরবর্তী অধ্যায়। আগামী ৭ এপ্রিল থেকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে ৯ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানি শুরু হবে বলে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করল সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ বনাম জয় বীর মামলার কাজ শেষ হলেই শবরীমালা মামলাটি গ্রহণ করা হবে। ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শেষবার এই মামলার শুনানি হয়েছিল।
সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘কোভিড মহামারির ঠিক আগে এই শুনানি শুরু হয়েছিল। মহামারি পর্বে ৯ জন বিচারপতির একসঙ্গে বসা সম্ভব ছিল না। এখন ওই বেঞ্চের একমাত্র আমিই অবশিষ্ট রয়েছি।’
আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে সমস্ত পক্ষকে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে হবে।
৭-৯ এপ্রিল: রিভিউ পিটিশনকারী এবং তাঁদের সমর্থকদের সওয়াল
১৪-১৬ এপ্রিল: যাঁরা এই পর্যালোচনার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের যুক্তি উপস্থাপন
২১-২২ এপ্রিল: পাল্টা যুক্তি এবং অ্যামিকাস কিউরি-র চূড়ান্ত বক্তব্য গ্রহণ
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের পরেই কেরল-সহ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক রিভিউ পিটিশন জমা পড়ে। কোভিড মহামারির কারণে থমকে থাকা সেই রিভিউ পিটিশনগুলির শুনানিই শুরু হতে চলেছে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, কেন্দ্র এই রিভিউ পিটিশনগুলিকে সমর্থন করছে। এদিকে, মামলার দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শীর্ষ আদালতে সিপিএম-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশের বিষয়ে ঠিক কী অবস্থান নেয়, তা স্পষ্ট করার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা।